জর্ডান কাজের কন্টাক্ট পেপার বা চুক্তিপত্র আসল না ভুয়া যাচাই করার পূর্ণাঙ্গ গাইড
বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য জর্ডান একটি আকর্ষণীয় দেশ যেখানে গারমেন্টস ও ভিবিন্ন সেক্টরে কাজের জন্য বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রবাসি এই দেশে যাচ্ছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল অসাধু দালাল বা এজেন্সি ভুয়া কন্টাক্ট পেপার বা চুক্তিপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। একটি কাগজের সিল বা স্বাক্ষর দেখে তা আপনি আসল মনে করেন এখনকার সময়ে এই একটা বড় ভুল হতে পারে আপনার জিবনে। আপনার কষ্টার্জিত টাকা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে জর্ডানের কাজের চুক্তিপত্র যাচাই করার সঠিক পদ্ধতিগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
আজকের টাকাররেট
আজকের সোনাররেট

১. কন্টাক্ট পেপারে কোন তথ্যগুলো থাকা বাধ্যতামূলক?
একটি বৈধ জর্ডানি কাজের চুক্তিনামায় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে:
নিয়োগকর্তার তথ্য: কোম্পানি বা রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির নাম ও ঠিকানা।
শ্রমিকের তথ্য: কর্মীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর এবং জাতীয়তা।
কাজের ধরন: আপনি সেখানে গিয়ে আসলে কি কাজ করবেন (যেমন: General Labour, Tailor বা অন্য কিছু)।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: মাসিক বেতন কত (জর্ডানি দিনারে), থাকা-খাওয়া, ওভারটাইম এবং ছুটির শর্তাবলি। সবকিছু এই একটা পেপারে থাকে
মেয়াদ: চুক্তির শুরু ও শেষ তারিখ বা কত বছরের চুক্তি।
২. BMET এবং ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই
বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের বিদেশে যাওয়ার আগে BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়।
আমি প্রবাসী অ্যাপ: আপনার স্মার্টফোনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপটি ইনস্টল করুন। সেখানে আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সার্চ দিন। যদি আপনার ভিসা বা ডিমান্ড লেটারটি আসল হয় এবং সরকারিভাবে নিবন্ধিত থাকে, তবে আপনার সব তথ্য সেখানে দেখতে পারবেন ।
ওয়েবসাইট: https://amiprobashi.com/et.gov.bd পোর্টালে গিয়েও পাসপোর্টের মাধ্যমে আপনার ক্লিয়ারেন্স স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। যদি ডাটাবেজে আপনার তথ্য না থাকে, তবে সেই পেপারটি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
৩. জর্ডানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা নিন
জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। আপনার কাছে থাকা চুক্তিপত্রটির একটি কপি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে (Embassy of Bangladesh in Jordan) মেসেজ দিয়ে বা তাদের ইমেইলে পাঠিয়ে অনুরোধ করতে পারেন এটি সঠিক কি না। তারা আপনাকে ওই নির্দিষ্ট কোম্পানি বা রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির (যেমন: AFAQ Recruitment) বৈধতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারবে।
৪. এজেন্সির লাইসেন্স বা RL নম্বর যাচাই
যেকোনো এজেন্সি বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠাতে চাইলে তাদের একটি Recruiting License (RL) থাকতে হয়। আপনাকে যে প্রতিষ্ঠানটি পেপার দিয়েছে, তাদের আরএল নম্বরটি সংগ্রহ করুন। এরপর BMET-এর ওয়েবসাইট থেকে মিলিয়ে দেখুন ওই লাইসেন্সটি বর্তমানে বৈধ কি না। অনেক সময় নিষিদ্ধ বা ব্ল্যাকলিস্টেড এজেন্সিগুলো মানুষের সাথে প্রতারণা করে।
৫. চুক্তিপত্রের তারিখ ও স্বাক্ষর লক্ষ্য করুন
ভুয়া পেপারগুলো সাধারণত পুরনো কোনো টেমপ্লেট থেকে এডিট করে বানানো হয়। আপনার পেপারের তারিখটি বর্তমান সময়ের কি না এবং সেখানে কোনো কাটাকাটি বা ঘষামাজা আছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করুন। এছাড়া, কোম্পানির স্ট্যাম্প বা সিলটি অস্পষ্ট হলে বা ডিজিটাল প্রিন্ট মনে হলে সাবধান হোন এটি ভুয়া কাগজ ।
৬. টাকা লেনদেনে বিশেষ সতর্কতা
আপনার কন্টাক্ট পেপারটি হাতে পাওয়ার পর যদি এজেন্সি বা দালাল সাথে সাথেই বড় অংকের টাকা দাবি করে, তবে সাবধান হোন। যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি সরকারিভাবে (যেমন ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ বা দূতাবাস থেকে) নিশ্চিত হচ্ছেন যে আপনার পেপারটি আসল, ততক্ষণ কোনো লেনদেন করবেন না। বিশেষ করে মেডিকেলের নামে বা অগ্রিম বুকিংয়ের নামে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৭. জর্ডানে থাকা পরিচিতদের মাধ্যমে যাচাই
আপনার যদি কোনো আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি জর্ডানে থাকে, তবে তাকে কন্টাক্ট পেপারে ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। ওই ঠিকানায় আসলেই কোনো অফিস আছে কি না এবং তারা বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে কি না তা সরাসরি জানা সম্ভব।
বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত আপনার জীবনের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। তাই উত্তেজনার বশে বা দালালের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে কোনো অপরিচিত কাগজে স্বাক্ষর করবেন না বা টাকা দেবেন না। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এখন ঘরে বসেই সব যাচাই করা সম্ভব। সচেতন হোন, সঠিক নিয়ম মেনে জর্ডানে যান এবং নিরাপদ জীবন গড়ুন।
বি.দ্র.: আপনার কাছে যদি সন্দেহজনক কোনো কন্টাক্ট পেপার থাকে, তবে এখনই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন অথবা অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিন।
