গামকা (Wafid) মেডিকেল কি এবং কেন প্রয়োজন?
সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন এবং আরব আমিরাতসহ জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোতে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই গামকা মেডিকেল (GAMCA Medical) বা বর্তমানের Wafid Medical করা বাধ্যতামূলক। এটি মূলত একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে, আপনার শরিরে কোনো সংক্রামক ব্যাধি বা বড় ধরনের কোন রোগে আক্রান্ত কি না।
যদি আক্রান্ত হোন বড় কোন রোগে তাহলে তারা আগেই বাদ দিয়ে দিবে যে আপনি বিদেশে যেতে পারবেন না তাই আপনি গামকা মেডিকেল করানোর আগে নিজের এলাকার কোন হাসপাতালে গিয়ে ফুল চেকাপ করিয়ে নিবেন । কারন গামকা মেডিকেল রিপোর্টে ‘ফিট’ (Fit) হলে তবেই আপনি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গামকা মেডিকেল প্রক্রিয়ায় কিছু ডিজিটাল পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

গামকা মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার নিয়ম
আগে সরাসরি ক্লিনিকে গিয়ে মেডিকেল করা যেত কিন্তু এখন Wafid ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগে অনলাইন স্লিপ বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে যদি আপনি নিজে নিজে মেডীকেল করতে চান । অনেকে আছে নিজের মেডিকেল নিজেই করে পরিচিত কেউ যদি ভিসা দেই ত তার নিজের ই একা একা সব কিছু করতে হয় আজকে আপনি জানতে পারবেন নিজে নিজে কিভাবে নিজের মেডিকেল নিজে করবেন সব কিছু ।
১. প্রথমে Wafid-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ‘Book an Appointment’ অপশনে গিয়ে আপনার পাসপোর্টের তথ্য, দেশ এবং কোন দেশে যেতে চান তা সিলেক্ট করুন।
৩. নির্দিষ্ট ফি প্রায় ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা এর ভিতরে পরিশোধ করতে হবে।
৪. পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি স্লিপ পাবেন যেখানে আপনার জন্য নির্ধারিত মেডিকেল সেন্টারের নাম ও ঠিকানা দেওয়া থাকবে।
মেডিকেল টেস্টে যা যা পরীক্ষা করা হয়
গামকা মেডিকেলে সাধারণত দুই ধরনের পরীক্ষা হয়: শারীরিক পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষা।
শারীরিক পরীক্ষা: উচ্চতা, ওজন, দৃষ্টিশক্তি, রক্তচাপ এবং শরীরের কোনো ক্ষত বা অপারেশন এর চিহ্ন আছে কি না তা দেখা হয়।
ল্যাব পরীক্ষা: রক্ত পরীক্ষা (HIV এইডস , Hepatitis B & C, Syphilis), বুকের এক্স-রে (যক্ষ্মা বা লাংস ইনফেকশন দেখার জন্য) এবং ইউরিন টেস্ট করা হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফি
মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার আগে আপনাকে নিচের এই কাগজগুলো সাথে রাখা জরুরি: যা যা রাখবেন ,
অরজিনাল পাসপোর্ট এবং সাথে দুই কপি ফটোকপি করে নিবেন ।
অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা ্মেডিকেল এর আবেদন স্লিপ আপনি আবেদন করার সমইয় যে স্লিপ দিয়েছিল
সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ৪-৬ কপি ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
ভিসা কপি বা এজেন্সির তথ্য যদি আপনি এজেন্সি এর মাধ্যমে করান মেডিকেল
ফি: সাধারণত বাংলাদেশে গামকা মেডিকেল ফি দেশের ওপর ভিত্তি করে আগে ছিল ৮,৫০০ সেটা এখন ৫ হাজার বেড়েচ ১৩,৫০০
টাকার করা হইয়েছে ।
গামকা মেডিকেল রিপোর্ট চেক করার পদ্ধতি
মেডিকেল শেষ করার সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যায়। আপনি ঘরে বসেই আপনার রিপোর্ট আপনি ‘Fit’ নাকি ‘Unfit’ তা চেক করতে পারেন।
https://wafid.com/en/medical-status-search/
আপনি উপরের দেওয়া লিংকে শুধু আপনার পাসপোর্ট নাম্বার টা দিবেন আর জাতিয়তা বাংলাদেশি সিলেক্ট করে দিবেন তাহলেই একটা স্লিপ আসবে আপনার সামনে সেটাতে আপনার রিপোর্ট দেখতে পারবেন আপনি ফিট নাকি আনফিট ।
মেডিকেলে ‘আনফিট’ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের কারণে প্রবাসীদের স্বপ্ন আসলে ভেঙে যায়। সচরাচর সবচেয়ে বেশি যেসব কারণে মানুষ আনফিট হয়:
ফুসফুসে পুরোনো দাগ বা যক্ষ্মার চিহ্ন।
রক্তে জন্ডিস বা হেপাটাইটিস ভাইরাসের উপস্থিতি।
কিডনিতে বড় কোনো সমস্যা।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস।
সতর্কতা ও পরামর্শ
১. দালাল থেকে সাবধান: গামকা মেডিকেলের স্লিপ কাটার জন্য কোনো দালালের কাছে বাড়তি টাকা দেবেন না। নিজে না পারলে বিশ্বস্ত কম্পিউটার দোকান বা প্রবাসী গাইডের সহায়তা নিন।
২. বিশ্রাম ও খাবার: মেডিকেলের আগের রাতে ভালো ঘুমান এবং সকালে হালকা খাবার খেয়ে মেডিকেল সেন্টারে যান।
৩. পানি পান: রক্ত পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা ভালো, এতে রক্ত পরিষ্কার থাকে।
৪. ঔষধ: আপনি যদি নিয়মিত কোনো ঔষধ খান, তবে ডাক্তারকে আগে থেকেই জানাতে পারেন ।
সঠিক নিয়ম মেনে গামকা মেডিকেল করলে আপনার বিদেশে যাওয়ার কোনো বাধা থাকবে না। মনে রাখবেন, একটি ভুল তথ্য বা জালিয়াতি আপনার বিদেশ যাওয়ার পথ একবারে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে। তাই সব সময় সরকারি অনুমোদিত সেন্টার এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।
দালাল থেকে দূরে থাকুন


