সৌদি আরবে কফিল পরিবর্তন বা কাফালা হওয়ার সময় বাকি বা বকেয়া টাকা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে অনেক মতভেদ আছে। অনেকে ধারণা করে যে , কাফালা হয়ে গেলে আগের সব বকেয়া টাকা পুরোনো কফিল বা আগের কফিল দিবে এবং নতুন কফিল শুধু নতুন বছরের য়াকামা করার টাকা দিবে।
কিন্তু সৌদি আরবের বর্তমান ডিজিটাল শ্রম ব্যবস্থা এবং কিউয়া (Qiwa) পোর্টারের নিয়মগুলো একটু আলাদা। ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাফালা হইয়ে গেলে একবার পরে কয়েক হাজার রিয়ালের বিশাল টাকার ধাক্কা আপনার ওপর আসতে পারে। আজ আমরা জানবো ২০২৬ সালের আইন অনুযায়ী আকামা এক্সপায়ার থাকলে কাফালার খরচ এবং বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রকৃত নিয়ম। প্রবাস গাইড

বকেয়া টাকা নিয়ে আইনি নিয়ম
বকেয়া টাকার সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের (MHRSD) নিয়ম অনুযায়ী, যখন একজন প্রবাসী এক কফিল থেকে অন্য কফিলে স্থানান্তর হন, তখন থেকে তার যাবতীয় সব খরচের দায়িত্ব নতুন কফিলের। কিন্তু যদি আকামা আগে থেকেই এক্সপায়ার থাকে, তবে আপনিমকি করবেন সেই সিস্টেমটি নিচে দেওয়া হলো।
- নতুন কফিলের পেমেন্ট: জাওয়াজাত এবং মাকতাবুল আমল সিস্টেম অনুযায়ী, কোনো কর্মীর আকামা নবায়ন রিনিও করতে হলে তার পুরো বকেয়া টাকা যদি ১ বা ২ বছর থাকে আগে পরিশোধ করতে হয়।
- প্র্যাকটিক্যাল পদ্ধতি: আপনি যখন নতুন কফিলের কাছে কাফালা হন, তখন সিস্টেম আপনার বকেয়া টাকাগুলো নতুন কফিলের ‘সাদাদ’ (Sadad) বিলের সাথে যুক্ত করে দেয়। অর্থাৎ নতুন কফিলকে আপনার বকেয়া ৯,৬০০ + ৯,৬০০ + বর্তমান বছরের ৯,৬০০ রিয়াল—সবটাই পরিশোধ করে আপনার আকামা রিনিও করতে হয়।
আগের কফিল কেন টাকা দিতে বাধ্য নয়?
আইনগতভাবে, যদি আপনি কোনো কফিলের অনুমতি ছাড়া বা আকামা এক্সপায়ার হওয়ার কারণে কাফালা হয়ে অন্য কোন কম্পানি বা কফিল এর অধিনে চলে যান, তবে পুরোনো কফিল আপনার বকেয়া টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারে বা দিবে না বললেই চলে । কারণ আপনি এখন আর তার কর্মী নন বা তার অধিনে না আপনার আকামা এক্সপায়ার । সৌদি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি যে, যে কফিল বর্তমানে আপনাকে ‘একসেপ্ট’ (Accept) করছে, তাকেই আপনার পেছনের সব আইনি দায়ভার নিতে হবে।
কাফালা খরচ ও জরিমানা
আপনি যেমনটা বলেছেন, কাফালার নির্দিষ্ট কিছু ফি আছে যা ২০২৬ সালেও অপরিবর্তিত বা আগের টাই আছে আছে:
- প্রথমবার কাফালা খরচ: ২,০০০ সৌদি রিয়াল।
- দ্বিতীয়বার কাফালা খরচ: ৪,০০০ সৌদি রিয়াল।
- তৃতীয় বা তার বেশিবার: ৬,০০০ সৌদি রিয়াল।
- জরিমানা: আপনার আকামা এক্সপায়ার থাকলে প্রথম বছরের জন্য ৫০০ রিয়াল এবং পরবর্তী বছরগুলোর জন্য ১,০০০ রিয়াল করে জাওয়াজাত জরিমানা আসবে। এই জরিমানা এবং কাফালার খরচ—উভয়ই সাধারণত নতুন কফিলকে বহন করতে হয়।
তাই আপনি কাফালা অন্য কোন জায়গায় কফিল বা কম্পানিতে হওয়ার আগে সব চুক্তি করে নেন যে আগের বছরের টাকা কে দিবে কাপালা কগরচ কে দিবে
সব কিছু ঠিক করে তারপর কাফালা হবেন
কিউয়া (Qiwa) পোর্টালে চুক্তি ও সতর্কতা
কাফালা হওয়ার আগে কিউয়া পোর্টালে যখন আপনার কাছে ‘রিকোয়েস্ট’ আসবে, তখন চুক্তির ভেতরে একটি অংশ থাকে যা আমরা এগ্রিমেন্ট বা চুক্তিপ্ত্র বলি যেখানে খরচ বহন করার কথা লেখা থাকে বেতন যবকিছু বিদতারিত ।
- সতর্কতা: যদি নতুন কফিল আপনাকে বলে যে, “আমি তোমাকে কাফালা করে নিচ্ছি কিন্তু আগের ২ বছরের বকেয়া ১৮,০০০ রিয়াল তুমি দেবে”—তবে আপনি বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই আগে ভালো করে চুক্তি করে নিবেন
- আইনি পরামর্শ: কাফালা হওয়ার আগে অবশ্যই নতুন কফিলের সাথে স্ট্যাম্প পেপারে বা কিউয়া চুক্তিতে পরিষ্কার করে নিন যে, আপনার বকেয়া মাকতাবুল আমল ফি তিনি পরিশোধ করবেন। কারণ সিস্টেম অনুযায়ী পুরোনো কফিলের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ আমার এক্সপায়ার আকামা
কখন পুরোনো কফিল টাকা দেবে আকামা করার জন্য
একটি মাত্র ক্ষেত্রে পুরোনো কফিল টাকা দিতে বাধ্য থাকে—যদি আপনি লেবার কোর্টে (Labor Court) মামলা করেন এবং প্রমাণ করতে পারেন যে, আপনার আকামা এক্সপায়ার হওয়ার জন্য একমাত্র কফিলই দায়ী ছিল এবং তিনি আপনাকে বেতন দেননি বা অত্যাচার করেছেন। সেক্ষেত্রে আদালত কফিলকে সেই বকেয়া টাকা পরিশোধের আদেশ দিতে পারে। কিন্তু সাধারণ কাফালার ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব নতুন কফিলের ই সব খরচ কময়ানি বা আপনার নতুন কফিল দিবে ।
প্রবাসে আপনার তথ্যের সামান্য কোন কিছু ভুল অনেক বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আপনি যেখানে কাফালা হচ্ছেন, সেই নতুন কফিল বা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং তাদের সাথে আপনার চুক্তির বিষয়গুলো আগে থেকেই পরিষ্কার করে নিন। “পুরাতন কফিল বকেয়া দেবে”—এই আশায় বসে না থেকে কিউয়া পোর্টালে নিজের স্ট্যাটাস চেক করুন। “প্রবাস গাইড” সব সময় আপনাকে বিদেশের মাটিতে আইনি স্বচ্ছতা এবং সচেতনতা দিয়ে সুরক্ষা দিতে চায়।

