সৌদি আরবে ১১,৩০০ অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার: এক সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান
সৌদি আরবে যারা আছেন এবং যারা নতুন করে সৌদি আরব আসার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক অভিযানে মাত্র এক সপ্তাহঈ মাঝে ১১,৩০০ জনেরও বেশি অবৈধ প্গ্রেরবাসি কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও শ্রমবাজারকে সুশৃঙ্খল করার জন্য একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
নিচে এই অভিযানের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আজকের টাকাররেট
আজকের স্বর্ণেররেট
অভিযানের বিস্তারিত পড়ুন-
গত ২৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের তিনটি প্রধান ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে:
১ রেসিডেন্সি আইন বা ইকামা ছাড়া: ৬,২৪৪ জন।
২. সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন: ৩,৫৪৩ জন। (যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে প্রবেশ করেছেন)
৩. শ্রম আইন লঙ্ঘন: ১,৫১৩ জন।
এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি একই সময়ে প্রায় ১৪,৮৫৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অবৈধ প্রবেশ ও ত্যাগের চেষ্টা
সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। এই এক সপ্তাহে ১,৩৩০ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ছে । এদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক এবং ৫৪ শতাংশ ইথিওপিয়ান নাগরিক। বাকি ৩ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়াও অবৈধভাবে দেশ ত্যাগ করার সময় ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সহায়তাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা
সৌদি প্রশাসন কেবল অবৈধভাবে থাকাদের নয়, বরং যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও এই অভিযানে ১৪ জন এমন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা অবৈধ অভিবাসীদের থাকার জন্য জায়গা দিয়েছে , পরিবহন বা কাজের সুযোগ দিয়ে সাহায্য করছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে:
কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অবৈধ অভিবাসীকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে সাহায্য করে বা তাদের পরিবহন এবং থাকার ব্যবস্থা করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এর পাশাপাশি তাকে ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (SAR 1,000,000) পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।
অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা ভবনটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য জানা জরুরি
সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ২৯,৯১৩ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ২৭,৬৯৯ জন পুরুষ এবং ২,২১৪ জন নারী।
এই অবস্থায় প্রবাসীদের করণীয়:
ইকামা এবং পাসপোর্ট: আপনার ইকামার মেয়াদ সব সময় যাচাই করুন এবং সঠিক সময়ে তা নবায়ন করুন।
শ্রম আইন মানা: নিজের কফিল বা কোম্পানি ছেরে অন্য কোথাও কাজ করা বা হুরুব প্রাপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সহযোগিতা না করা: পরিচিত হলেও কোনো অবৈধ ব্যক্তিকে নিজের রুমে আশ্রয় দেওয়া বা নিজের গাড়িতে করে পরিবহন করা থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার নিজের বৈধতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
রিপোর্ট করুন: কোনো এলাকায় সন্দেহভাজন কার্যক্রম দেখলে মক্কা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে কল করে প্রশাসনকে জানাতে পারেন।
সৌদি আরবে বৈধভাবে থাকা এবং সে দেশের আইন মেনে চলা কেবল আপনার নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং আপনার উপার্জিত অর্থ এবং ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন।
আপনার কি সৌদি আরবের শ্রম আইন বা ইকামা সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে? নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।
সবাই যত দ্রুত সম্ভব যাদের আকামা এক্সপায়ার আছে রিনিও করে নেন সৌদি ভিসন ২০৩০ অবৈধ লোকদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।
সৌদি আরবে দূতাবাস নাম্বার নিচে দেওয়া হলো-
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা
টেলিফোন: +৯৬৬-১২-৬৮৭-৮৪৬৫
ইমেইল: cg@bcgjeddah.com
লেবার উইং (শ্রমিক কল্যাণ): +৯৬৬-৫০-১৩৬-৫১৯৮ / +৯৬৬-৫০-৮০৫-৮১২৩
বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ
টেলিফোন: +৯৬৬-১১-৪১৯-৫৩০০
টোল ফ্রি নম্বর (জরুরি সেবা):
ডিপ্লোম্যাটিক উইং: ৮০০-১০০-০১২৪
শ্রম কল্যাণ শাখা: ৮০০-১০০-০১২৫
পাসপোর্ট ও ভিসা শাখা: ৮০০-১০০-০১২৬
ইমেইল: mission.riyadh@mofa.gov.bd
