দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নত অর্থনীতির দেশ। দেশটির প্রযুক্তিশিল্প যতটা উন্নত, কৃষি খাতও ঠিক তথটাই উন্নত। তবে গত কয়েক বছরে কোরিয়ার গ্রামাঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যা বেরে যাওয়ায় এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে অনেক কাজের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকার ২০২৬ সালের প্রথম বারের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রেকর্ড ১ লক্ষ ৪ হাজার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা দেশটির ইতিহাসে কৃষি খাতে সর্বোচ্চ জনবল নিয়োগের ঘটনা।
শ্রমিক নিয়োগের বর্তমান প্রেক্ষাপট

কোরিয়া টাইমস এবং দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই বিপুল পরিমাণ শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে কৃষি খাতে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ হাজার ৭৩৮ জন, সেখানে ২০২৫ সালে তা ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চাহিদার এই বিশাল উল্লম্ফন প্রমাণ করে যে, কোরিয়ার কৃষি অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণরূপে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল।
ভিসার ধরণ ও কাজের সময়সীমা
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মূলত দুই ধরণের ভিসার প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে:
১. E-8 ভিসা (সিজনাল ওয়ার্কার): মোট নিয়োগের একটি বড় অংশ মানে ৯৪ হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে এই ক্যাটাগরিতে। এটি মূলত কম মেয়াদি ৫ থেকে ৮ মাসের জন্য ঋতুভিত্তিক কাজের ভিসা।
২. E-9 ভিসা (অদক্ষ শ্রমিক): বাকি শ্রমিকরা ই-৯ ভিসার অধীনে ৩ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
প্রধান চাষাবাদ ও কাজের ক্ষেত্র
দক্ষিণ কোরিয়ায় মূলত ঋতুভেদে চাষাবাদ হয়ে থাকে। এপ্রিল থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর হলো দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত চাষাবাদের সময়। এই সময়ে প্রধানত যে ফসলগুলোর জন্য শ্রমিক প্রয়োজন হয়, তা হলো:
- ফল: আপেল, নাশপাতি, আঙুর এবং পিচ ফল।
- সবজি: পেঁয়াজ, রসুন, আলু, বাঁধাকপি এবং মরিচ। এই কাজগুলো সাধারণত সিউল থেকে দূরে অবস্থিত ইমসিল কাউন্টি বা উত্তর জেওলা প্রদেশের মতো গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বেশি হয়ে থাকে।
সরকার প্রদত্ত নতুন সুযোগ-সুবিধা
বিদেশি শ্রমিকদের আকৃষ্ট করতে এবং তাদের জীবনযাত্রা সহজ করতে কোরিয়া সরকার বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে:
- আর্থিক ভর্তুকি: যাতায়াত এবং আবাসন খরচের বোঝা কমাতে দৈনিক ১০ হাজার ওন (প্রায় ৭ ডলার) অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
- মোবাইল রেজিস্ট্রেশন: যারা সশরীরে ইমিগ্রেশন অফিসে যেতে পারেন না, তাদের জন্য মোবাইলের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিবন্ধনের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
- বিশেষ ব্যুরো গঠন: ইমিগ্রেশন সার্ভিসের অধীনে একটি পৃথক ‘সিজনাল ওয়ার্কার ব্যুরো’ স্থাপন করা হয়েছে যাতে শ্রমিকদের যেকোনো প্রশাসনিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়।
আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
যদিও কোরিয়া সরকার বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে থাকে, তবুও আবেদনকারীদের কিছু সাধারণ যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন:
১. বৈধ পাসপোর্ট এবং শারীরিক সক্ষমতা।
২. কৃষি কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার।
৩. কোরিয়ান ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান (অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে সুবিধা বেশি)।
৪. কোনো প্রকার অপরাধমূলক রেকর্ডে থাকা যাবে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই বৃহৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছে। যারা অল্প সময়ে ভালো অর্থ উপার্জন করতে চান এবং কোরিয়ার মতো উন্নত দেশে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য ২০২৬ সালের এই প্রথম বারেই পারে শ্রেষ্ঠ সময়। তবে যেকোনো আবেদনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত সোর্স এবং সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করা উচিত
আপনি যদি কোরিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, তবে স্থানীয় কোরিয়ান ভাষার কিছু প্রাথমিক শব্দ এবং কৃষি কাজের ধরণ সম্পর্কে ধারণা রাখা আপনার জন্য কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে। নিয়মিত প্রবাস সংক্রান্ত খবরের জন্য আমদের সাইটে চোখ রাখুন। প্রবাস গাইড
