বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে পাসপোর্ট সেবাকে আরও উন্নতভ, নিরাপদ এবং সহজ করার উদ্দেশ্যে ই-পাসপোর্ট (e-Passport) কার্যক্রম একটি মাইলফলক। আপনি যে দেশেই থাকুন বা প্রবাসে, বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো দেশে, আপনার একটি বৈধ ই-পাসপোর্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি। আজকের আর্টিকেলে আমরা ই-পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম, ফি এবং সৌদি আরব থেকে আবেদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ই-পাসপোর্ট কী এবং কেন এটি প্রয়োজনীয়?
ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট যাতে একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে যার ভিতরে আপনার সকল তথ্য থাকে । এই চিপে পাসপোর্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং আঙুলের ছাপ সংরক্ষিত থাকে। এর সবথেকে বড় সুবিধা হলো ‘ই-গেট’ (e-Gate) সুবিধা, যার মাধ্যমে বিমানবন্দরে কোনো লাইনে না দাঁড়িয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ভিতরে আপনি ইমিগ্রেশন শেষ ফেলতে পারবেন । এটি এমআরপি (MRP) পাসপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। এইজন্য ডিজিটাল বাংলাদেশে পাসপোর্ট সেবা চালু করা হয়েছে ।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের সঠিক নিয়ম
ই-পাসপোর্টের আবেদন এখন সম্পূর্ণ অনলাইন করা যায় এর জন্য আপনাকে বাংলাদেশে যেতে হবে না । আপনাকে কোনো দালালের কাছে ও যেতে হবে না না গিয়ে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন ,
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ইমেইল দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
ফরম পূরণ: আপনার এনআইডি (NID) বা জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করুন।
সার্ভিস টাইপ নির্বাচন: আপনি কত দিনের (৫ বছর না ১০ বছর) এবং কত পাতার করতে চান (৪৮ না ৬৪ পাতা) পাসপোর্ট নিতে চান তা সিলেক্ট করুন।
অফিস নির্বাচন: আপনার বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বা নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস (প্রবাসীদের জন্য) সিলেক্ট করুন।
সকল দেশের দূতাবাসের নাম্বার দেখুন
ই-পাসপোর্ট কর তে কী কী কাগজপত্র লাগে?
আবেদন জমা দেওয়ার সময় নিচের কাগজগুলো সাথে রাখতে হবে:
অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি (Application Summary)।
পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার চালানের কপি।
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
পুরানো পাসপোর্টের কপি (যদি থাকে)।
পেশার প্রমাণপত্র (প্রয়োজন সাপেক্ষে)। এই কাগজ গুলা আপনার কাছে অবশ্যই থাকতে হবে।
ই-পাসপোর্ট ফি এবং পেমেন্ট পদ্ধতি
২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের ফি পাতার সংখ্যা এবং ডেলিভারির সময়ের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এ-চালানের (A-Challan) মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক বা বিকাশের মতো এমএফএস (MFS) সেবার মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়। তবে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দূতাবাসের নির্ধারিত ফি ডলারে বা আপনি যে দেশে আছেন সেই দেশের টাকায় জমা দিতে হয়।
ই-পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
আবেদন করার পর আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা কী তা জানতে বারবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনি ঘরে বসেই অনলাইন পোর্টালে গিয়ে ‘ https://epassport.gov.bd/authorization/application-status’ অপশনে আপনার ‘Application ID’ এবং জন্ম তারিখ দিয়ে বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে পারবেন। এছাড়াও মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমেও আপডেট করতে পারবে
আপনি এখানে উপড়ের দেওয়া লিংকে আপনার ই-পাসপোর্টের অবস্থান বা স্টাটাস দেখতে পারবেন আপনার জন্ম তারিখ আর আবেদন এর আইডি নাম্বার টা শুধু দিয়ে চেক করতে পারবেন
সৌদি আরব থেকে ই-পাসপোর্ট আবেদন (বিশেষ দ্রষ্টব্য)
সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ। রিয়াদ দূতাবাস বা জেদ্দা কনস্যুলেটের অধীনে নির্দিষ্ট সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হয়। আবেদনের নিয়ম দেশের মতোই, তবে ঠিকানার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। যারা এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট করতে চান, তারা অবশ্যই ‘Re-issue‘ অপশনটি বেছে নেবেন।
ই-পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করার নিয়ম
অনেকে সময় দেখা যায় নিজের অজান্তে ভুল হয়ে গেছে অনেক সময় ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে আবেদন বাতিল করার প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে হয়। অনলাইনে সরাসরি বাতিলের অপশন না থাকায় এটি সরাসরি অফিসে গিয়ে করতে হয়। তাই আবেদন করার সময় তথ্যগুলো আপনি বারবার ভালো যাচাই করে আবেদন করবেন ।
সতর্কতা: আপনার পাসপোর্ট অত্যন্ত মূল্যবান । কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা দালাল কে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করবেন না। যেকোনো ফি সরাসরি সরকারি চ্যানেলে পরিশোধ করুন।
দেখে নিন কত বছর মেয়াদী পাসপোর্ট কত টাকা ,
| পাসপোর্টের মেয়াদ | ডেলিভারির ধরণ | ফি (ভ্যাটসহ) | ডেলিভারি সময় (প্রায়) |
| ৫ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | সাধারণ -(Regular) | ৪,০২৫ টাকা | ১৫-২১ কার্যদিবস |
| ৫ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | জরুরি- (Urgent) | ৬,৩২৫ টাকা | ৭-১০ কার্যদিবস |
| ৫ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | অতীব জরুরি- (Super Urgent) | ৮,৬২৫ টাকা | ২ কার্যদিবস |
| ১০ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | সাধারণ -(Regular) | ৫,৭৫০ টাকা | ১৫-২১ কার্যদিবস |
| ১০ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | জরুরি- (Urgent) | ৮,০৫০ টাকা | ৭-১০ কার্যদিবস |
| ১০ বছর মেয়াদী যদি আপনি করতে চান | অতীব জরুরি -(Super Urgent) | ১০,৩৫০ টাকা | ২ কার্যদিবস |

