বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য দলিল । বর্তমানে ই-পাসপোর্টের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও, এমআরপি (Machine Readable Passport) বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট নিয়ে এখনো মানুষের মনে অনেক নানা রকমের প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা রয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রবাসে আছেন বা যাদের এখনো এমআরপি রয়েছে, তাদের জন্য ২০২৫-২৬ সালের নিয়মগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট কী এবং এর পূর্ণরূপ
এমআরপি-এর পূর্ণরূপ হলো Machine Readable Passport। এটি এমন এক ধরনের পাসপোর্ট যাতে একটি বিশেষ ডাটা জোন (MRZ) বা বিস্থাতারিত থাকে, যা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডার মেশিনের সাহায্যে দ্রুত পড়া যায়। ২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রথম এটি চালু করা হয়। বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ২২ জানুয়ারি ২০২০ সালে চালু হলেও এমআরপি এখনো অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন কি অনেকের কাছে এখনো রইয়ে গেছে।

এমআরপি কি বর্তমানে বন্ধ?
সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেশে বর্তমানে নতুন করে আর এমআরপি ইস্যু করা হচ্ছে না। তবে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বা প্রবাসি আছেন যাদের ই-পাসপোর্ট করার সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এমআরপি নবায়ন বা রিনিউ করার সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হলো ধিরে ধিরে সকল এমআরপি গ্রাহককে ই-পাসপোর্টের আওতায় নিয়ে আসা। কারণ ই পাসপোর্ট ২০২০ সালে চালু হওয়ার পরে এম আর পি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এখন আর কাউকে এমআর পি পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না।
এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন ২০২৬: নতুন নিয়ম
২০২৬ সালে এমআরপি নবায়নের জন্য কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে পাসপোর্ট অধিদপ্তর সরাসরি ই-পাসপোর্টের দিকে উৎসাহিত করছে। তবে আপনার যদি জরুরি প্রয়োজনে এমআরপি রিনিউ করতে হয়, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হতে পারে:
অনলাইন চেক: প্রথমে আপনার বর্তমান পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করে নিন যে এটি নবায়নের যোগ্য কি না।
আবেদন ফরম: নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
ই-পাসপোর্ট ফি তালিকা ৪৮ পাতার দেখে নিন
৫ বছর মেয়াদের সাধারণ: ৪,০২৫ টাকা
জরুরি: ৬,৩২৫ টাকা
বেশি জরুরি: ৮,৬২৫ টাকা
১০ বছর মেয়াদে সাধারণ পাসপোর্ট ৫,৭৫০ টাকা
জরুরি: ৮,০৫০ টাকা
বেশি জরুরি: ১০,৩৫০ টাকা
পাসপোর্ট ফি: মেয়াদ ও পাতার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ফি ভিন্ন বা কম বেশি হতে পারে।
এমআরপি পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করার পদ্ধতি
আপনার এমআরপি আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আপনার এনরোলমেন্ট আইডি এবং জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট passport.gov.bd-এ গিয়ে “Check Application Status” অপশনে তথ্য দিলেই আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান আপনি জানতে পারবেন।
এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্ট: রূপান্তরের নিয়ম
বর্তমানে এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর হওয়া অনেক সহজ এবং নিরাপদ। আপনার এমআরপির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা পাতা ফুরিয়ে গেলে আপনি সরাসরি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো ঝামেলার প্রয়োজন নেই; শুধুমাত্র আপনার বর্তমান এমআরপি পাসপোর্টের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকলেই আবেদন করা সম্ভব। আর এনআইডির সাথে যাতে পাসপোর্টে এর মিল থাকে।
এমআরপি বনাম ই-পাসপোর্ট: কোনটি ভালো?
প্রযুক্তির দিক থেকে ই-পাসপোর্ট এমআরপির চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। ই-পাসপোর্টে একটি ইলেকট্রনিক চিপ আছে যেখনে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি জালিয়াতি করা অসম্ভব এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ই-গেট ব্যবহার করে দ্রুত ইমিগ্রেশন শেষ করা যায়। তাই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধার জন্য এমআরপি থেকে ই-পাসপোর্টে চলে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর ২০২৬ সালে এমআরপি নতুন করে আর হবে না ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এমআরপি পাসপোর্ট রিনিউ করতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণত ২১ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সাধারণ ডেলিভারি দিয়ে দেই, তবে জরুরি ক্ষেত্রে এটি ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পাওয়া সম্ভব।
২. এমআরপি পাসপোর্ট কেন ই-পাসপোর্টে পরিবর্তন করা উচিত?
নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুবিধার জন্য ই-পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশে স্বীকৃত ।
৩. আমার এমআরপি পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে, আমি কি এখন ই-পাসপোর্ট করতে পারব?
হ্যাঁ, পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বা শেষ হওয়ার আগেই আপনি যেকোনো সময় ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বদা সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত পাসপোর্ট অফিসের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দালালের খপ্পরে না পড়ে নিজে অনলাইন সিস্টেম ব্যবহার করে আবেদন করবেন সবচেয়ে নিরাপদ। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়,

