প্রবাসে ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল চালাচ্ছেন? জেল ও বড় জরিমানা এড়াতে ৫টি কঠোর নিয়ম
বর্তমানে সৌদি আরব, দুবাই, কাতার এবং ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবাসীদের কাছে যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটার।। এবং সাইকেল খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা ডেলিভারি কাজ করেন বা মেস থেকে কাজে যান, তাদের জন্য এটি অন্বক সাশ্রয়ী। কিন্তু আপনি কি জানেন? ২০২৬ সালের নতুন ট্রাফিক আইন অনুযায়ী, একটি ছোট ভুল বা সামান্য একটি হেলমেট না পরার কারণে আপনার ইকামার ওপর ১,০০০ থেকে ৫,০০০ রিয়াল/দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা আসতে পারে? এমনকি বারবার আইন অমান্য করলে আপনার লাইসেন্স চিরতরে বাতিল হতে পারে। আজ আমরা জানবো প্রবাসে স্কুটার ও সাইকেল চালানোর সময় কোন ৫টি বিষয়ে খেয়াল রাখলে আপনি আইনি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন।
১. লাইসেন্স এবং পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা
অনেক প্রবাসী মনে করেন স্কুটার বা সাইকেল চালাতে কোনো লাইসেন্স লাগে না। কিন্তু দেশভেদে নিয়ম বদলেছে।
আসুন বাস্তব তথ্য জানি: দুবাই বা রিয়াদের মতো শহরে এখন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর জন্য ‘রাইডিং পারমিট’ বা ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আপনি যদি আপনার ইকামার সাথে এই পারমিট লিঙ্ক না করেন, তবে পুলিশ আপনার স্কুটারটি সাথে সাথে বাজেয়াপ্ত করবে স্কুটার নিয়ে যাবে সোজা থানায়। তাই স্কুটার কেনার আগে স্থানীয় ট্রাফিক পোর্টাল যেমন সৌদিতে ‘Absher’ বা দুবাইতে ‘RTA’ থেকে নিয়মটি যাচাই করে নিন। মনে রাখবেন, লাইসেন্স ছাড়া স্কুটার চালানো মানে হলো সরাসরি জরিমানার নিজের কাছে ডেকে আনা।
ক্রোয়েশিয়া কাজের ভিসা ২০২৬: বেতন, চাহিদাসম্পন্ন কাজ ও সহজে ভিসা পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড
প্রবাসে নিজের সাইকেল বা মোটরসাইকেল চুরির হাত থেকে বাঁচাবেন কীভাবে? চুরি হলে করণীয় ও আইনি সুরক্ষা
সৌদি আরব থেকে ইউরোপ যাওয়ার উপায় ২০২৬ খরচ নিয়ম
২. হাইওয়ে এবং মেইন রোডে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা
সবথেকে বেশি জরিমানা আসে রাস্তা ভুল করার কারণে। ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল কখনোই বড় গাড়ি চলার হাইওয়েতে চালানো যাবে না।
আইনি নিয়ম: যেসব রাস্তার গতির সীমা ৬০ কিলোমিটারের বেশি, সেখানে স্কুটার বা সাইকেল নিয়ে ওঠা নিষিদ্ধ। আপনাকে সবসময় রাস্তার পাশে থাকা সাইড লেন ব্যবহার করতে হবে। যদি আপনি ভুলে হাইওয়েতে উঠে পড়েন, তবে ট্রাফিক ক্যামেরা আপনার ছবি তুলে সরাসরি আপনার মোবাইলে জরিমানার মেসেজ পাঠিয়ে দেবে। ফুটপাতে স্কুটার চালানো অনেক দেশে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য অবৈধ, তাই সিগন্যাল মেনে চলাই ভালো।
৩. নিজের সুরক্ষা বা সেফটি গিয়ার
বিদেশের ট্রাফিক পুলিশ সেফটি গিয়ারের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয় না। এটি শুধু জরিমানার জন্য না, আপনার জীবনের নিরাপত্তার জন্যও জরুরি।
বাধ্যতামূলক সরঞ্জাম: রাতে বা দিনের আলোতে চালানোর সময় অবশ্যই একটি মজবুত হেলমেট এবং জ্যাকেট পরতে হবে। এই জ্যাকেটের কাজ হলো দূর থেকে বড় গাড়ির চালককে আপনার উপস্থিতি জানানো। আপনার স্কুটারের সামনে একটি সাদা লাইট এবং পেছনে একটি লাল লাইট থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক প্রবাসী ভাই এই ছোট লাইট না থাকার কারণে বিশাল জরিমানা গুনছেন।
৪. ধারণক্ষমতা ও অতিরিক্ত আরোহী
ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল সাধারণত একজনের জন্য তৈরি। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় দুই জন বন্ধু মিলে একটি স্কুটারে চড়ে যাচ্ছেন।
সতর্কতা: বিদেশের ট্রাফিক আইনে এটি একটি বড় অপরাধ। যদি পুলিশ দেখে যে এক স্কুটারে দুইজন আছেন, তবে চালক এবং আরোহী উভয়কেই জরিমানা করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্কুটারের ব্রেক ফেল করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রবাসে আপনার শরীরই আপনার সম্পদ, তাই অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে নিজের ও অন্যের জীবন বিপদে ফেলবেন না।
৫. পার্কিং নিয়মাবলী
যেখানে সেখানে স্কুটার ফেলে রাখা বা পার্কিং করা এখন বড় অপরাধ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তাহলে সঠিক নিয়ম কি: আপনি যদি রেন্টাল স্কুটার যেমন- Lime, Bird বা Careem ব্যবহার করেন, তবে নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে সেটি লক করবেন না। সেখানেপার্কিং জোনের বাইরে স্কুটার রাখলে আপনার একাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা কেটে নেওয়া হবে। নিজস্ব সাইকেল বা স্কুটার হলে সেটি এমন জায়গায় রাখেন যেন পথচারীদের চলাচলে বাধা না হয়। মনে রাখবেন, সিসিটিভি ক্যামেরা সবসময় আপনাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
আমাদের কথা
প্রবাসে সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে নিয়ম ভাঙলে আপনার মাস শেষে জমানো সব টাকা জরিমানা দিতে দিতেই চলে যাবে। আপনি যদি ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল ব্যবহার করেন, তবে আজই একটি হেলমেট এবং জ্যাকেট কিনে নিন। ট্রাফিক আইন মেনে চলা মানে শুধু টাকা বাঁচানো নয়, এটি প্রবাসে আপনার ব্যক্তিত্ব ও সচেতনতার পরিচয় দেয়। বিদেশের মাটিতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন, তবেই আপনি নিশ্চিন্তে কাজ করে সফল হতে পারবেন।

