প্রবাসে মেয়েদের নিরাপদ থাকার মাস্টার গাইড: জীবনযাপন ও আত্মরক্ষার ৫টি মূলমন্ত্র
বিদেশের মাটিতে একজন নারীর জন্য সবথেকে বড় সম্পদ হলো তার সচেতনতা যদি যে সবসময় সচেতম থাকে তাহলে তার ক্ষতি বা বিপদে পড়ার সম্ভাবনা কম। যেমন জর্ডান, সৌদি আরব, দুবাই বা ইউরোপ—দেশ যেটাই হোক না কেন, প্রবাসী নারীদের অনেক ধরনের সামাজিক, মানসিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা লাগে । অনেকে নতুন দেশ থেকে এসে বুঝে না যে কিভাবে নতুন পরিবেশে কীভাবে চললে তারা বিপদমুক্ত থাকবেন। আজ আমরা জানবো প্রবাসে একজন নারীর জীবনযাপন কেমন হওয়া উচিত এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী উপায়গুলো কী কী।
নতুন পরিবেশে মেলামেশায় সীমারেখা
প্রবাসে আসার পর অনেক মা বোন একাকীত্ব বোধ করেন এবং খুব দ্রুত অন্যের ওপর বিশ্বাস করে ফেলেন। যা প্রবাসে খারাফ একটা দিক
বিস্তারিত পরামর্শ: রুমে বা কাজের ক্ষেত্রে বাঙালি বা অন্য দেশের মানুষের সাথে অবশ্যই সম্পর্ক ভালো রাখবেন, কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত সব তথ্য যেমন দেশে জমি কোথায়, ব্যাংকে কত টাকা আছে , বা পরিবারের কোনো দুর্বলতা কারো কাছে বলবেন না শেয়ার করবেন না ।আপনাকে মনে রাখতে হবে , প্রবাসে আপনার সবথেকে বড় আপন মানুষ যেমন প্রবাসী হতে পারে, তেমনি সুযোগসন্ধানী মানুষও আপনার চারপাশেই থাকতে পারে। বিশেষ করে পুরুষ সহকর্মীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে একটি পেশাদার দূরত্ব বজায় রাখুন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (Facebook/TikTok) নিজের কর্মস্থলের লোকেশন বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি পাবলিকলি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
আর্থিক স্বাধীনতা ও টাকা সংরক্ষণের সঠিক উপায়
অনেক বোন প্রবাসে এসে নিজের এত কষ্টের ইনকামের টাকা অন্যের কাছে আমানত রাখেন বা দালালের মাধ্যমে দেশে পাঠান।
নিরাপদ পদ্ধতি: আপনার কষ্টের ইনকামের টাকা কখনোই রুমমেট, বন্ধু বা এমনকি বিদেশের কোনো আত্মীয়ের কাছে দিয়ে রাখবেন না। নিজের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন বা বেতন হওয়ার সাথে সাথে সেখানে টাকা জমা করুন। দেশে টাকা পাঠানোর জন্য সবসময় বৈধ ভাবে টাকা পাঠান যেমন- ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউস ব্যবহার করুন। আপনার এটিএম কার্ডের পিন (PIN) বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ড কাউকে বলবেন না। তাহলে আপনার টাকা যে কোন সমই তুলে নিয়ে যেতে পারে । অনেক সময় দেখা যায়, সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিচিত মানুষই আপনার একাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছে। টাকা পয়সার ব্যাপারে সবসময় ‘না’ বলতে শিখুন। কারণ এটা প্রবাস আপনার বিপদে কেউ এগিয়ে আসবে না । সব টাকা বারিত না পাঠিয়ে নিজের কাছে রাখবেন যাতে কোন জরুরি সমইয়ে বা আপনি অসুস্থ হলে বিপদে পড়া না লাগে।
পোশাক ও স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান
আপনি যে দেশে যাবেন বা আছেন, সেই দেশের সংস্কৃতি তারা কিভাবে চলে এবং পোশাকের প্রতি সম্মান দেখানো আপনার নিরাপত্তার একটি অংশ। যদি সেখানে বোরকা পড়ে আপনি খোলামেলা চলেন আপনি মনে করতে পারেন আমি ত দেশে না আমাকে এখানে কে দেখবে কে আছে এই পোশাক এর কারণে ও আপনি বিপদে পড়তে পারেন । যে দেশের যে মিয়ম সেই নিয়মেই চলতে হবে
বাস্তব অভিজ্ঞতা: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাইরে বের হওয়ার সময় বোরকা হিজাব এই ধরনের পোশাক পরা জরুরি। আবার ইউরোপের দেশগুলোতে পরিবেশ অনুযায়ী পোশাক পরুন। স্থানীয় নিয়ম অমান্য করলে আপনি শুধু শুধু পুলিশের নজরে পড়তে পারেন বা মানুষের বাজে মন্তব্যের শিকার হতে পারেন। আপনার চলন-বলন যেন ভালো হয়, যাতে কেউ আপনাকে ভুল কোন ইশারা দেওয়ার সাহস না পায়। রাস্তাঘাটে একা হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে মগ্ন না থেকে চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখুন।
আইনি নথি ও জরুরি কন্টাক্ট নম্বর সবসময় সাথে রাখা
একজন প্রবাসির বিদেশের মাটিতে আসল পরিচয় হলো তার পাসপোর্ট এবং আইডি (যেমন- ইকামা বা রেসিডেন্স কার্ড)।
সুরক্ষা টিপস জানুন : আপনার নিজের পাসপোর্ট অন্য কারো হাতে বা কফিল চাইলেও দেবেন না যদি সেটি কোন সরকারি কোন কাজের জন্য হয় তাহলে ঠীক আছে আগে যাচাই করে তারর দিবেন । পাসপোর্টের ৪ থেকে ৫ কপি রঙিন ফটোকপি করে সাথে রাখবেন রাখুন এবং মোবাইলে ছবি তুলে সেভ সেভ করে রাখবেন । আপনার মোবাইলের স্পিড ডায়ালে ৩টি নম্বর সব সময় সেভ রাখবেন:
১. স্থানীয় পুলিশ বা ইমারজেন্সি নম্বর সংগ্রহ করে সাথে রাখুন । সকল দেশের ইমারজেন্সি নাম্বার
২. আপনি যে দেশে যাবেন সে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেল্পলাইন নাম্বার সাথে রাখুন
৩. আপনার কোম্পানির সুপারভাইজার বা বিশ্বস্ত কোনো অভিভাবক যদি থাকে তার নম্বর। যদি কখনো মনে হয় আপনি বিপদে পড়েছেন বা কেউ আপনাকে অনুসরণ করছে, তবে লজ্জা না পেয়ে সাথে সাথে এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করুন এবং আপনার সমস্যার কথা জানান ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্ল্যাকমেইল থেকে মুক্তি
বর্তমানে প্রবাসে অনেক নারী সাইবার ক্রাইম বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন। বিষেশ করে যারা বাসা বাড়ির কাজে যাচ্চে
সতর্কতা: অপরিচিত কারো সাথে ভিডিও কলে কথা বলবেন না। মেয়েদের বিদেশে গেলে সেখানে শাসম করার কেউ থাকে না যে তাকে কিছু বলবে কাজ শেষ করে সোস্যাল মিডীয়া নিয়ে ব্যাস্ত ইদানীং ‘ইমো’ বা ‘হোয়াটসঅ্যাপে’ ভিডিও কলের মাধ্যমে নগ্নতা বা আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করে পরে টাকা দাবি করার অনেক ঘটনা ঘটছে। যদি কেউ আপনাকে কোনো ছবি বা ভিডিও দিয়ে ভয় দেখায়, তবে ভয় পেয়ে তাকে টাকা দেবেন না। টাকা দিলে তারা বারবার চাইবে। এর চেয়ে ভালো সরাসরি পুলিশকে জানানো বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন। বিদেশে সাইবার আইন অনেক কড়া, পুলিশকে জানালে আপনার পরিচয় গোপন রেখেই তারা অপরাধীকে গ্রেপ্তার করবে।
প্রবাস গাইড এর শেষ কথা হলো প্রবাসে আপনি এসেছেন নিজের এবং পরিবারের ভাগ্য বদলাতে। আপনার সাহস এবং বুদ্ধিমত্তাই আপনাকে সফল করবে। সবসময় এই চিন্তা করবেন, আপনি একা না আপনার দেশের আইন এবং আপনার কর্মস্থলের আইন আপনার পাশে আছে। নিজের সম্মান এবং নিরাপত্তা সবার আগে দেখতে হবে । একটু সচেতন হয়ে যদি আপনি চলে্ন তাহলে আপনি প্রবাসে যেমন শান্তিতে থাকতে পারবেন, তেমনি মাথা উঁচু করে দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

