প্রবাসে কেনা মোবাইল বা এসি নষ্ট? ওয়ারেন্টি দিচ্ছে না কোম্পানি? ভোক্তা অধিকার ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের নিয়ম
প্রবাস জীবনে আরামদায়ক যাপনের জন্য আমরা অনেক সময় অনেক দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনি। কিন্তু দেখা যায় কেনার কিছুদিন পরই সেই এসি, ফ্রিজ বা শখের মোবাইল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যখন আপনি সেটি ঠিক করার জন্য শোরুম বা সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যান, তখন তারা বিভিন্ন অজুহাত যেমন- লিকুইড ড্যামেজ, ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘষামাজা বা পার্টস নেই ইত্যাদি কথা বলে দিয়ে আপনাকে ফিরিয়ে দেয়। অনেক প্রবাসী ভাই ভাষা সমস্যার কারণে বা ঝামেলা এড়াতে মুখ বুঝে এই অন্যায় মেনে নেন। কিন্তু আপনি কি জানেন? সৌদি আরব, দুবাই বা ইউরোপের দেশগুলোতে ‘ভোক্তা অধিকার’ আইন অত্যন্ত শক্তিশালী। আজ আমরা জানবো কীভাবে ওয়ারেন্টি থাকা অবস্থায় আপনার অধিকার আদায় করবেন এবং কোম্পানিকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে ফ্রিতে মেরামত বা রিপ্লেসমেন্ট বুঝে নেবেন।
ওয়ারেন্টি এবং গ্যারান্টির পার্থক্য কিভাবে বোঝবেন
কোন পণ্য বা জিনিস কেনার সময় আপনাকে আগেই বুঝতে হবে আপনি আসলে কোন ধরনের সেবা পাচ্ছেন।
সফটওয়্যার বনাম হার্ডওয়্যার: ফোনের ক্ষেত্রে অনেক সময় শুধু হার্ডওয়্যার ওয়ারেন্টি থাকে। যদি আপনার ফোনের ডিসপ্লে আপনা আপনি নিজেন নিজে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা কোম্পানি ঠিক করে দিতে বাধ্য। কিন্তু আপনার হাত থেকে পড়ে ডিসপ্লে ভাঙলে তা ওয়ারেন্টির ভিতরে পড়বে না। সেটা আপনি নিজ দ্বায়িক্তে ঠিক করতে হবে ।
সার্ভিস ওয়ারেন্টি: অনেক সময় পণ্য কেনার সময় বলে সার্ভিস ওয়ারেন্টি এর মানে অনেকে জানে না এটা হলো পার্টস নষ্ট হলে তার দাম আপনাকে দিতে হবে, তারা শুধু টেকনিশিয়ানের মজুরি নেবে না। মন্র করেন আপনার ফোনের স্পিকার চলে গেছে তাহলে স্পিকার এর দাম আপনাকে দিতে হবে আর তারা যে ঠিক করে দিবে সেটার দাম তারা নিবে না ফ্রি তগে তারা করে দিবে তাই কেনার আগে রসিদে অবশ্যই ওয়ারেন্টি লেখা আছে কি না তা যাচাই করুন।
বাংলাদেশি টাকায় বিভিন্ন দেশের আজকের টাকার রেট
প্রবাসে নিজের সাইকেল বা মোটরসাইকেল চুরির হাত থেকে বাঁচাবেন কীভাবে? চুরি হলে করণীয় ও আইনি সুরক্ষা
২০২৬ সালে ছেলেদের জন্য কোন দেশ সেরা? প্রবাসে যাওয়ার আগে ৫টি দেশের বেতন ও জীবনযাত্রার তুলনা
ওয়ারেন্টি দাবি করার জন্য সঠিক তথ্য প্রমাণ গুছিয়ে রাখা
আপনি যখনই সার্ভিস সেন্টারে যাবেন, আপনার কাছে নিচের ৩টি জিনিস থাকা বাধ্যতামূলক:
অরিজিনাল ইনভয়েস : ক্যাশ মেমো বা ডিজিটাল রসিদটি যত্ন করে রাখুন। যদি রসিদ হারিয়ে যায়, তবে যে দোকান থেকে কিনেছেন তাদের বললে তারা আপনাকে সিস্টেম থেকে ডুপ্লিকেট একটা কপি দিতে পারে।
্ওটয়ারেন্টি কার্ড: অনেক কোম্পানি পণ্যের বক্সের ভেতরে একটি কার্ড দেয় যাতে ঐ দোকান বা শপ এর নাম তারিখ লেখা থাকে সিল থাকে। এটি ছাড়া অনেক সময় এই দাবি গ্রহণ করা হয় না।
সমস্যার ছবি ও ভিডিও: আপনার এসি থেকে যদি পানি পড়ে বা মোবাইলে যদি দাগ দেখা দেয়, তবে দোকানে যাওয়ার আগেই তার পরিষ্কার ভিডিও করে রাখুন। এটি পরে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
কোম্পানি যদি ফিরিয়ে দেয় তবে পরবর্তী পদক্ষেপ
যদি সব ঠিক থাকে নতুন পণ্য কিনলেন কইদিন চালালেল নিজে থেকেই নষ্ট হয়ে গেছে আর আপনার কাগজ পত্র সব ঠীক আছে যদি সার্ভিস সেন্টার বলে যে তারা এটি ঠিক করবে না, তবে সাথে সাথে সেখান থেকে চলে আসবেন না। তাহলে কি করবেন ?
রিজেকশন পেপার : তাদের বলুন যে কেন তারা আপনার ওয়ারেন্টি গ্রহণ করছে না তা লিখিত আকারে দিতে। অধিকাংশ কোম্পানি লিখিত দিতে ভয় পায়, কারণ সেটি পরে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যে আমাকে লিখে দেন কেন ঠিক করে দিবেন না আপানারা ।
ম্যানেজারের সাথে কথা বলা: সাধারণ টেকনিশিয়ানের বদলে কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজারের সাথে কথা বলুন। তাদের ওই দেশের ভোক্তা অধিকার আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিন।
ভোক্তা অধিকার দপ্তরে অভিযোগ করার উপায়
বিদেশের মাটিতে সাধারণ মানুষের সবথেকে বড় বন্ধু হলো ‘ভোক্তা অধিকার দপ্তর’।
সৌদি আরব: এখানে ‘Ministry of Commerce’ এর একটি অ্যাপ আছে যার নাম ‘Commercial Violation’। আপনি চাইলে ১৯০০ নম্বরে কল করে বা অ্যাপে আপনার রসিদ আপলোড করে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ করার আগে আপনি আপনার সকল কাগজ ঠিক আছে ল্কিনা চেক করে নিবেন যাতে আপনার উপড় কোন দূষ বা চাপ না আসে ।
ইউএই : দুবাইতে ‘DED’ বা ‘Dubai Economy’ পোর্টালে গিয়ে অভিযোগ করা যায়। তারা ১০-১৫ দিনের মধ্যে কোম্পানিকে চাপ দিয়ে আপনার সমস্যার সমাধান করে দেয়।
ইউরোপ: ইউরোপের দেশগুলোতে ‘Consumer Ombudsman’ বা ‘Small Claims Court’ থাকে। অনলাইনে সামান্য ফর্মে অভিযোগ করলে কোম্পানি আপনাকে উল্টো ফোন দিয়ে মাফ চাইবে এবং পণ্য ঠিক করে দেবে।
জালিয়াতি ও নকল পণ্য থেকে সাবধান থাকা
অনেক সময় আমরা সস্তায় রাস্তার পাশের দোকান থেকে ইলেকট্রনিক্স কিনি।
সতর্কতা: এসব দোকানের রসিদে অনেক সময় ওয়ারেন্টি বা ওয়ান টাইম লেখা থাকে। মনে রাখবেন, অফিসিয়াল শোরম ছাড়া পণ্য কিনলে কোনো সরকারই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে না। সবসময় নামী শোরুম যেমন- লুলু, পান্ডা, বা অফিসিয়াল ব্র্যান্ড শপ থেকে পণ্য কিনুন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে পণ্যের অরিজিনালিটি চেক করুন।
আপনার কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা পণ্যের প্রতিটি পয়সার হিসাব আপনাকে বুঝে নিতে হবে। প্রবাসে দয়া নয়, বরং নিজের অধিকার নিয়ে বাঁচতে শিখুন। আপনি যদি সঠিক হন এবং আপনার কাছে বৈধ রসিদ থাকে, তবে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিও আপনার দাবি মেনে নিতে বাধ্য। নিজের ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জানুন এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিন। আপনার একটি সচেতন অভিযোগ অন্য হাজার হাজার প্রবাসীকেও প্রতারণা থেকে রক্ষা করবে।

