সরকারিভাবে বিদেশ যাত্রা ২০২৬: বাংলাদেশ থেকে বোয়েসেল (BOESL)-এর মাধ্যমে যেসব দেশে যাওয়া যায়
দালালের প্রতারণা এড়িয়ে নিরাপদ ও নামমাত্র খরচে বিদেশ যাওয়ার সবথেকে বিশ্বস্ত মাধ্যম হলো সরকারি সংস্থা বোয়েসেল (BOESL)। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এখানে কোনো অগ্রিম টাকা দিতে হয় না এবং সরাসরি সরকারি তদারকিতে কাজ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি কর্মী সরকারিভাবে কোন কোন দেশে যেতে পারবেন এবং সেসব দেশের সুযোগ-সুবিধা কেমন, আজ আমরা সেই তালিকার বিস্তারিত আলোচনা করবো।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া
সরকারিভাবে বিদেশে যাওয়ার সবথেকে বড় এবং জনপ্রিয় আকর্ষণ হলো দক্ষিণ কোরিয়া।
পদ্ধতি: ইপিএস (EPS) পদ্ধতির মাধ্যমে বোয়েসেল কর্মী পাঠায়।
সুবিধা: এখানে মাসিক বেতন বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। থাকা-খাওয়া এবং বীমা সুবিধা কোম্পানি বহন করে।
যোগ্যতা: লটারি বা আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হয় এবং কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে জর্ডান
বাংলাদেশি নারী কর্মীদের জন্য জর্ডান একটি অত্যন্ত চমৎকার গন্তব্য। বোয়েসেল প্রতি মাসে শত শত নারী কর্মী জর্ডানের নামী দামী গার্মেন্টস কোম্পানিতে পাঠায়।
পদ্ধতি: সরাসরি ভাইভার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়।
সুবিধা: জর্ডানে যাওয়ার জন্য কোনো টাকা দিতে হয় না । বিমানের টিকিট, ভিসা এবং খাওয়া-থাকা কোম্পানি দেয়। বেতন সাধারণত ২৫-৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয় এবং ওভারটাইমের সুযোগ থাকে।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে জাপান
জাপানে কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী এবং দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার সুযোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
পদ্ধতি: বোয়েসেলের মাধ্যমে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন এবং এসএসডব্লিউ (SSW) ভিসায় যাওয়া যায়।
সুবিধা: জাপানেও বেতন অনেক ভালো, মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। তবে এখানে জাপানি ভাষায় N4 বা N5 লেভেল পর্যন্ত জ্ঞান থাকা জরুরি।
আরো পড়ুন-সৌদি আরব থেকে ইতালি যাওয়ার উপায়: ভিসা প্রসেস, খরচ ও সম্পূর্ণ গাইডলাইন
বোয়েসেল এর মাধ্যমে মরিশাস
আফ্রিকা মহাদেশের সুন্দর এই দেশটিতেও বোয়েসেল নিয়মিত কর্মী পাঠায়। বিশেষ করে গার্মেন্টস এবং কন্সট্রাকশন সেক্টরে পুরুষ ও নারী উভয়ই যাওয়ার সুযোগ পান।
সুবিধা: যাওয়ার খরচ খুবই কম এবং কাজের পরিবেশ উন্নত। বেতন বাংলাদেশি টাকায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলো
বর্তমানে বোয়েসেলের মাধ্যমে ইউরোপের কয়েকটি দেশে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দেশসমূহ: রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া এবং বুলগেরিয়া।
সুবিধা: এসব দেশে ড্রাইভার, হোটেল বয়, এবং কন্সট্রাকশন শ্রমিক হিসেবে সরকারিভাবে গেলে খরচ অনেক কম হয়। বেতন সাধারণত ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কাছাকাছি থাকে।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে কুয়েত ও কাতার
মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত এবং কাতারে সরকারিভাবে দক্ষ নার্স এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়।
সুবিধা: নার্সদের জন্য এই দেশগুলোতে বেতন এবং আবাসন সুবিধা অত্যন্ত উন্নত। বোয়েসেল সরাসরি সরকারি হাসপাতালেও কর্মী পাঠায়।
বোয়েসেল এর মাধ্যমে হাঙ্গেরি ও লিবিয়া
ইদানিং হাঙ্গেরিতে কৃষি ও নির্মাণ কাজে এবং লিবিয়ায় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও বোয়েসেলের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। লিবিয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকারিভাবে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কার্যক্রম আবার জোরদার হচ্ছে।
কেন আপনি সরকারিভাবে যাওয়ার চেষ্টা করবেন
নিরাপদ বিনিয়োগ: বোয়েসেলের মাধ্যমে গেলে টাকা হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিসা পাওয়ার পর সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
আইনি সুরক্ষা: আপনি যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তবে সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা বোয়েসেল আপনাকে আইনি সহায়তা দিতে বাধ্য।
কম খরচ: যেখানে দালের মাধ্যমে সৌদি বা মালয়েশিয়া যেতে ৫-৬ লাখ টাকা লাগে, সেখানে বোয়েসেলের মাধ্যমে অনেক দেশে ১ লাখ টাকার নিচেই যাওয়া সম্ভব।
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া মানে হলো শতভাগ নিশ্চিন্তে থাকা। আপনি যদি কর্মঠ হন এবং বিশেষ করে ভাষা বা কারিগরি কাজে দক্ষতা থাকে, তবে বোয়েসেলের ওয়েবসাইট (www.boesl.gov.bd) নিয়মিত চেক করুন। দালালের মিষ্টি কথায় না ভুলে নিজের যোগ্যতায় সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করুন। “প্রবাস গাইড” সবসময় আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে প্রতারণা মুক্ত রাখার চেষ্টা করবে।

