মহিলারা কি বিদেশে আসবেন? প্রবাসে যাওয়ার আগে ৫টি বাস্তব সত্য ও আইনি সুরক্ষা
বাংলাদেশ থেকে এখন প্রবাসে এখন অনেক বোন বা মা কাজের জন্য আসছেন। বিশেষ করে সৌদি আরব, জর্ডান,দুবাই বা ওমানে হাউজমেড (গৃহকর্মী) হিসেবে অনেক নারী শ্রমিক কাজ করছেন এবং কাজের জন্য আসতেছেন বা আসতে চাচ্ছেন । কিন্তু আমাদের দেশের অনেক বোন না জেনে দালালের হাতে পড়ে বিদেশে এসে বিপদে পড়েন। আজ আমরা একদম খোলামেলা আলোচনা করবো যে একজন মেয়ে বা মহিলার বিদেশে আসা উচিত কি না এবং আসলে কোন ৫টি জিনিস তাকে জানতেই হবে।
১. দালালের সহজ কথা কান দেওয়া
দালালরা আপনাকে বলতে পারে যে বিদেশে গিয়ে মালিকের বাড়িতে শুধু রান্নাবান্না আর ঘর গোছানো, তার পড় শুধু ঘুমাবেন আর খাবেন কোনো কষ্ট নেই। বাস্তব কিন্তু এটা না তাহলে বাস্তব সত্ত কি
- বাস্তব সত্য: বিদেশের বড় বড় বাড়িগুলোতে কাজ করা অনেক পরিশ্রমের অনেক কষ্টের। অনেক সময় ১০-১২ জন সদস্যের ঘরের সব কাজ একাই করতে হয়। সেখানে কাজের কোনো আসলে নির্দিষ্ট কোন সময় নেই যে কম্পানির মত সকাল ৮ টা থেকে ৫ টা এমন কোন নিদৃষ্ট সময় নেই । আপনাকে আপনার কাজ শেষ না হওয়া অব্দি করতে হবে তাই আসার আগে নিজের শরীর ও মনের জোর আছে কি না তা আগে চিন্তা করে আসবেন।
২. বেতন এবং মোবাইল ব্যবহারের অধিকার
অনেক মালিক বাসায় আসার পর মহিলাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বাস্তব প্রবাস গাইড সৌদি আরবের একজন বোন লিখেছে আসার পড় থেকে তার ফোন নিয়ে গেছে ৭ দিন পড়ে দিছে বারিতে কথা বলার জন্য মাত্র ৫ মিনিট । আবার ফেরত নিয়ে গেছে এইভাবে কিছুদিন পড় ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য মোবাইল ব্যাবহার করতে দেই । এমন অনেক মালিক বা কফিল আছে ।
- গোপন তথ্য: আইনিভাবে আপনার কফিল বা মালিক আপনার ব্যক্তিগত মোবাইল কেড়ে নিতে পারে না। আসার আগেই এজেন্সিকে বলে দিন যে আপনি নিজের পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য প্রতি দিনে অন্তত ১ ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করবেন । আর বেতন সবসময় নিজের ব্যাংক একাউন্টে বা ‘মোবাইল ওয়ালেটে’ নেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে মালিক বেতন মেরে দিতে না পারে।
৩. মালিকের বাড়িতে একা থাকা ও সুরক্ষা কি
গৃহকর্মী বা বাসা বারিতে যারা বিদেশে কাজের জন্য আসে তাদের সবথেকে বড় ঝুঁকি হলো একাকীত্ব এবং নিরাপত্তা। অনেক ভয় মনের মধ্যে কাজ করে। বাসা বারিতে কাজ কি হয় না হয় ।
স্মার্ট পদক্ষেপ: যদি কোনো বাড়িতে দেখেন আপনি একা মহিলা কর্মী এবং বাকিরা সব পুরুষ, তবে সেখানে থাকা নিরাপদ নয়। এমন হলে সাথে সাথে আপনার এজেন্সি বা দালাল কে জানান। বিদেশের আইনে গৃহকর্মীদের জন্য আলাদা রুম এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কঠীন নিয়ম আছে। কারো হাতে আপনার নিজের পাসপোর্ট দেবেন না যদিও অনেক দেশেই এটি অবৈধভাবে কেড়ে নেওয়া হয়। যাতে শ্রমিক পালিয়ে না যেতে পারে এউজন্য অবৈধ ভাবে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেই। তাই আগেই পাসপোর্টের ছবি সবসময় নিজের মোবাইলে রাখুন।
৪. ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য
ভাষা না বোঝার কারণে অনেক সময় মালিকের বকা গালাগালি খেতে হয় বা ভুল বোঝাবুঝি হয়। যারা নতুন যায় তাদের কথা কিছুই ভুঝে না যার জন্য মা বোনেরা অনেক বেশি সমস্যায় পড়ে।
- সতর্কতা: আসার আগে অন্তত ৩ মাসের ভাষা শিক্ষা ট্রেনিং নেওয়া উচিত। মালিক কী বলছে আপনাকে তা বুঝতে না পারলে আপনার কাজ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাই যারা যে দেশেই যান না কেন আগে ভাষা টা শেখে যাবেন এছাড়া বিদেশের খাবার এবং জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নেওয়া অনেক বোনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে দেয়।
৫. কখন আসা উচিত আর কখন নয়?
- আসা উচিত: যদি আপনার পরিবারে বড় ধরনের অভাব থাকে এবং আপনি দক্ষ যেমন- নার্সিং, টেইলারিং বা ক্লিনার হন, তবে সঠিক এজেন্সির মাধ্যমে আসা ভালো। আর কম্পানি ভিসায় আসার চেষ্টা করবেন হাউজ বা বাসা বাড়ির ভিসায় না এসে
- আসা উচিত নয়: কারো দেখা দেখি বা দালালের কথা শুনে আসা একদম উচিত নয়। দালাল আপনাকে পাঠালে তার লাভ আপনি পরে গিয়ে বিপদে পড়বেন কি না পড়বেন সে তা দেঝবে না পড়ে আর তার ক্ষমতা নাই আপনাকে বিদেশ থেকে আবার নিয়ে যাবে ভালো এজেন্সি দেখে আসবেন সরকার অনুমদিত রিক্রটিং লাইসেন্স দেখে । বিশেষ করে যাদের ছোট বাচ্চা আছে তাদের রেখে বিদেশে আসা অনেক সময় বড় ধরনের পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়।
প্রবাস গাইড চাই না আপনি বিদেশে এসে একটা বিপদে পড়েন । প্রবাসে টাকা আছে ঠিকই, কিন্তু মহিলাদের জন্য চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। আপনাকে অনেক সাহসী হতে হবে আপনি যদি সাহসী হন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তবেই প্রবাসে সফল হওয়া সম্ভব। আসার আগে অবশ্যই বিএমইটি (BMET) থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ট্রেনিং সম্পন্ন করবেন। মাথায় রাখবেন, আপনার একটু সচেতনতাই প্রবাসে আপনার সবথেকে বড় বাচার উপায়।

