কফিল কি কফিলের ক্ষমতা এবং প্রবাসীদের সাথে এর আইনি সম্পর্ক
আমরা বাংলাদেশি রা অনেকে জানি না যে কফিল আসলে কফিল কাকে বলে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার বা ওমানের মতো দেশগুলোতে কাজ করতে গেলে একজন প্রবাসীকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কোন কময়ানির অধীনে থেকে কাজ করা লাগে । এই নিয়োগকর্তাকেই সহজ ভাষায় কফিল বলা হয়। আরবি ভাষায় ‘কফিল’ শব্দের অর্থ হলো ‘জামিনদার’ বা । প্রবাসীদের জন্য কফিল তাদের কফিল ই সব কারণ প্রবাস জীবনে আপনার আইনি বৈধতা থেকে শুরু করে দেশে ফেড়া এই সব কিছু কফিল এর ওপর নির্ভর করে।
কফিল আসলে কে বা কী?
সহজভাবে যদি বলি তাহলে , আপনি যখন সৌদি আরব বা কোন আরব দেশে যান সেটা হতে পারে দুবাই কাতার ওমান কাজের জন্য , তখন সৌদি আরব সরকার সরকার আপনাকে সরাসরি চেনে না। সরকার চেনে আপনার কফিলকে। আসলে কে আপনাকে নিয়ে আসছে কার স্পন্সারে আপনি সৌদি কাজ করবেন আপনার কফিল একজন সৌদি নাগরিক হতে পারেন অথবা কোনো বড় কোম্পানি হতে পারে। সরকারের কাছে আপনার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব এবং আপনার সকল গ্যারান্টি দেন এই আপনার কফিল। আপনি যে আকামা (Iqama) ব্যবহার করে সৌদি আরবে আছেন , সেটি মূলত কফিলের মাধ্যম হয়ে একটি কাজের পারমিট।
কফিল বা কাফালা ব্যবস্থার মূল কাজগুলো কী?
একজন কফিলের আন্ডারে প্রবাসিদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আইন য়াছে
আকামা করা : আপনার আকামা রিনিউ করার দায়িত্ব কফিলের। কফিল যদি আকামা রিনিউ না করে, তবে আপনি সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে পড়বেন। আর আপনার কফিল ছাড়া আপনার আকামা আর কেউ করতে পারবে না ।
কাজের নিশ্চয়তা: কফিল আপনাকে তার কম্পানি বা ব্যাক্তিগত কাজ যে কাজে আপনি আসছেন সে কাজ দেওয়া এবং মাস শেষে বেতন দেওয়ার সব আপনার কফিল করে কফিল মানে ঐ দেশের আমনার মালিক মনে করেন ।
সফর বা ছুটি: আগে নিয়ম ছিল কফিলের অনুমতি বাইরে কাজ করা যাবে না কিন্তু এখন প্রবাসিদের নিয়েই আসে বাহিরে কাজ দেওয়ার জন্য আপনি যে কাজে দক্ষ সেই কাজে দেওয়ার জন্য । এর জন্য কিছু কাগজ পত্র লাগে কফিলের যেমন সৌদি আরবে আজির, চেম্বার, কলের বেন্ডর কোড, বর্তমানে এই কাগজ গুলো থাকলে আপনি যে কোন জায়গায় কাজ করতে পারবেন সৌদি আরবের ।
কফিলের ক্ষমতা ও সীমা ২০২৬ সালের আপডেট
আগে একটা সময় ছিল যখন কফিল মানেই প্রবাসীদের জন্য একমাত্র ক্ষমতার অধিকারী । কিন্তু এখন সৌদি ভিশন-২০৩০ এর পর শ্রম আইনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে যেমন
চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক: এখন আর প্রবাসীদের সাথে কফিলের সম্পর্ক আগের মত নেই এখন হবে একটি ‘ডিজিটাল কন্ট্রাক্ট’ বা চুক্তির মাধ্যমে। কফিল চাইলেই আপনার সাথে অন্যায় আচরণ করতে পারবেন না। সেই যুযোগ নাই আপনি যাবেন কন্টাক্ট পেপার বা চুক্তিপ্ত্র এর মাধ্যমে যা অনলাইনে করা হয় কিওয়া এর মাধ্যমে আপনাকে আপনার কিওয়া তে রিকুয়েস্ট পাঠাবে সব কিছু ঠিক থাকলে আপনি এপ্রোভ করবেন ।
কফিল পরিবর্তন বর্তমানে যদি আপনি আপনার কফিল পরিবর্তন করতে চান তাহলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত যেমন ৩ মাস বেতন না দেওয়া বা আকামা রিনিউ না করে দেওয়া কফিলের অনুমতি ছাড়াই অন্য কফিলের কাছে কাফালা হওয়া সম্ভব। যদি আপনার আকামা ৩ মাস এক্সপায়ার বা মেয়াদ না থাকে তাহলে আপনি আপনার কফিক এর অনুমতি ছাড়ায় অন্য কফিল বা কম্পানিতে চলে যেতে পারবেন ।
পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখা: সৌদি আরবে আইন অনুযায়ী, কফিল কোনোভাবেই আপনার পাসপোর্ট নিজের কাছে আটকে রাখতে পারবেন না এমন কোন আইন নাই । পাসপোর্ট প্রবাসীর নিজের সম্পদ এবং এটি নিজের কাছে রাখা তাঁর আইনগত অধিকার।
কফিলের সাথে প্রবাসীদের বিবাদ ও প্রতিকার
যদি আপনার কফিল আপনাকে অত্যাচার করে, বেতন না দেয় কিংবা অবৈধভাবে ‘হুরুব’ দিয়ে দেয়, তবে আপনি এর কারণে আইনত ভাবে ব্যাবস্থা মিতে পারবেন । বর্তমানে সৌদি শ্রম আদালত এবং ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনি কফিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন । অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কফিলের লাইসেন্স বাতিল হতে যেতে পারে যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন আপনাকে আপনার কফিল অত্যাচার বা ইচ্ছাকৃত ভাব্র হুরুব দিয়েছে এবং আপনি অন্য কফিলের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
কফিল ও কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য কি
প্রবাসী ভাইদের একটি বিষয় জানা দরকার যে । যখন আপনি কোনো বড় কোম্পানিতে (যেমন- বিন লাদেন বা আরামকো) কাজ করেন, তখন সেই কোম্পানিই কিন্তু আপনার কফিল। আর যখন আপনি কোনো ব্যক্তিগত বাড়িতে বা ছোট দোকানে কাজ করেন, তখন সেই ব্যক্তি মালিকই আপনার কফিল। সাধারণত ব্যক্তিগত কফিলের চেয়ে কোম্পানি কফিলের অধীনে কাজ করা বেশি নিরাপদ কেন কারণ সেখানে আপনার মত আরো হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে একটা কম্পানিতে।
কফিল মানেই ভয় না – ভয়পাওয়ার কিছু নেই , বরং এটি একটি সৌদি বা মধ্য প্রাচ্যের আইনি প্রক্রিয়া। আপনার কফিল যদি ভালো হয়, তবে প্রবাস জীবন আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। তবে একজন সচেতন প্রবাসী হিসেবে আপনার উচিত সবসময় নিজের কাজের চুক্তিপত্র বা কন্ট্রাক্ট পেপারটি ভালো করে বুঝে নেওয়া। “প্রবাস গাইড” এর পরামর্শ হলো কফিলের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন, য়ার নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকুন। মনে রাখবেন, ২০২৬ সালের নতুন সৌদি আইনে আপনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীন।
আজকের সোনার রেট

