৩-৪ মাস বেতন পাচ্ছেন না? প্রবাসে বকেয়া বেতন আদায়ের ৫টি আইনি ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গুলো নিন
এখন ইদানি সৌদি আরবে অনেক প্রবাসি ভাই বলতেছে ৩ মাস ৬ মাস তাদের বেতন দেই না বেতণ আটকা সাপ্লাই বেতন দেই না ১ মাস দিলে ৩ মাস বেতন আটকে থাকে। প্রবাসে বেতন আটকে যাওয়া মানে শুধু আর্থিক ভাবে ক্ষতি না, এটি মানসিকভাবে একজন প্রবাসীকে ভেঙে ফেলে। অনেক সময় কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় বা মালিক ইচ্ছা করেই বেতন দেয় না। আপনি যদি ৩-৪ মাস বেতন না পান, তবে চুপ করে বসে থাকা মানে হলো নিজের বিপদ আরও বাড়ানো। আজ আমরা জানবো বিদেশের মাটিতে আইনগতভাবে নিজের ঘামের পয়সা বুঝে নেওয়ার সঠিক নিয়ম।
দালিলিক প্রমাণ বা এভিডেন্স সংগ্রহ
প্রথমে আপনাকে মামলা বা অভিযোগ করার আগে আপনার কাছে প্রমাণ থাকতে হবে কাগজ থাকতে হবে যে আপনি কাজ করেছেন কিন্তু টাকা পাননি।
প্রবাসী বাস্তব অভিজ্ঞতা: আপনার কাজ করা মাসিক টাইম শিট আপনার প্রতিদিনের ডিউটি করা , পাঞ্চ কার্ডের ছবি, বা সিসিটিভি ফুটেজের রেকর্ড যদি সম্ভব হয় ম্যানেজ করুন বা ভিডিও যে আপনি কাজ করছেন । এছাড়া কোম্পানির মালিক বা ম্যানেজারের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে বেতন নিয়ে যে কথা হয়েছে, তার স্ক্রিনশট নিন। বিদেশের শ্রম আদালতে এই ডিজিটাল চ্যাটগুলো অনেক সময় বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
প্রথম ধাপ ডিমান্ড নোটিশ পাঠানো
সরাসরি মামলা না করে প্রথমে কোম্পানিকে একটি লিখিত চিঠি দিন। থাকে জানান আগে ভালো করে ভুঝান যদি কাজ হয় তাহলে ত ভালো আর যদি না হয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবেন
কগোপন তথ্য: একজন আইনজীবীর মাধ্যমে বা নিজে বিনীতভাবে একটি চিঠি দিন যে আপনার ৩-৪ মাসের বেতন বাকি আছে। চিঠিতে উল্লেখ করুন কত তারিখের মধ্যে আপনি টাকা চান। অনেক সময় কোম্পানি আইনি চিঠির কথা শুনলেই ভয় পেয়ে বেতন দিয়ে দেয়। এই চিঠির একটি কপি এবং রিসিভ কপি সবসময় নিজের কাছে রাখুন।
প্রবাসে ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল চালাচ্ছেন? জেল ও বড় জরিমানা এড়াতে ৫টি কঠোর নিয়ম
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সঠিক নিয়ম ২০২৬: দূরত্ব, খরচ, বিমান ও সমুদ্র পথের বাস্তব তথ্য
প্রবাসে ইলেকট্রিক স্কুটার বা সাইকেল চালাচ্ছেন? জেল ও বড় জরিমানা এড়াতে ৫টি কঠোর নিয়ম
লেবার কোর্ট বা শ্রম মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ
যদি কোম্পানি চিঠির উত্তর না দেয়, তবে দেরি না করে ওই দেশের শ্রম মন্ত্রণালয় যেমন: সৌদি আরবে ‘MOL’, দুবাইতে ‘MOHRE’, বা মালয়েশিয়ায় ‘JTK’) এ অভিযোগ করুন। অভিযোগ এর সময় অবশ্যই আপনার কাগজ বা প্রমাণ থাকতে হবে যে আপনাকে বেতন দেই নাই আপনি কাজ করছেন ।
আধুনিক পদ্ধতি: বিদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, টানা ৩ মাস বেতন না দিলে আপনি কোনো জরিমানা ছাড়াই কোম্পানি পরিবর্তন করার অধিকার রাখেন। অভিযোগ করার সময় আপনার চুক্তিনামা এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখান যে গত ৩-৪ মাস কোনো টাকা আপনার একাউন্টে ঢোকেনি।
দূতাবাস বা কনস্যুলেটেরহস্তক্ষেপ
কোম্পানি যদি খুব প্রভাবশালী হয়, তবে আপ্ড়ানার একার পক্ষে লড়াই করা কঠিন হতে পারে।
সতর্কতা: আপনার দেশের দূতাবাসের লেবার উইং-এ যান। তারা সরাসরি কোম্পানির মালিকের সাথে কথা বলবে এবং প্রয়োজনে কোম্পানির নামে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেবে। কোনো দেশই চায় না তাদের দেশে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হোক, তাই দূতাবাসের চাপ কোম্পানি সহজে মানতে পারে
।
কোম্পানি দেউলিয়া হলে ‘ইন্স্যুরেন্স ফান্ড’ থেকে টাকা দাবি
উন্নত অনেক দেশে (যেমন: ইউরোপ বা সিঙ্গাপুর) কোম্পানির কর্মীর বেতনের জন্য একটি ইন্স্যুরেন্স ফান্ড থাকে।
অভিজ্ঞতার টিপস: যদি কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যায় বা পালিয়ে যায়, তবে সরকারের বিশেষ তহবিল থেকে আপনি অন্তত ৩ মাসের বেতন পাওয়ার আবেদন করতে পারেন। একে বলা হয় ‘Wage Protection System’ বা ‘Insolvency Fund’। এই ফান্ড সম্পর্কে স্থানীয় লেবার অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখতে পাড়েন, কারণ অনেক প্রবাসী জানেনই না যে তাদের বেতনের বীমা করা আছে।
প্রবাস গাইড শেষ কথা
বেতন আপনার দয়া নয়, এটি আপনার অধিকার। ৩ মাস পার হওয়ার পর আর অপেক্ষা করবেন না। ধৈর্য ধরা ভালো, কিন্তু নিজের প্রাপ্য আদায় করা আরও বেশি জরুরি। বিদেশের আইন সবসময় শ্রমিকের পক্ষে থাকে যদি আপনি সঠিক কাগজ দেখাতে পারেন। ভয় পাবেন না, আপনার পরিশ্রমের টাকা আপনি অবশ্যই ফিরে পাবেন।

