স্পেশাল ইক্সিট নতুন নিয়ম সৌদি আরব
সৌদি আরবে যাদের হুরুব বা ইকামার মেয়াদ শেষ, তারা কীভাবে স্পেশাল এক্সিট ভিসা নিয়ে দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস আগে যাদের আকামা এক্সপায়ার বা হুরুপ আছে তারা যদি স্পেশাল ইক্সিট এর জন্য আবেদন করতো তাহলে তাদের একটা পেপার দেওয়া হতো বা হার্ড কপি দেওয়া হতো এখন নতুন নিয়মে আর সেই হার্ড কপি দেওয়া হবে না এখন সব অনলাইনে হবে । আপনাকে অনালাইন কপি তুলতে হবে নিচে আপনি স্পেশাল ইক্সিট আবেদন করার পড়ে নিচের সাইটে গিয়ে আপনার আকামা বা বরডার নাম্বার দিয়ে আপনার আবেদনের ফ্রম ডাউনলোড করে নিবেন। ডাউনলোড করার পড়ে এই নিচের সাইটে জামা দিবেন পিডিএফ ফাইল
সৌদি আরবে অনেক প্রবাসী কর্মী বিভিন্ন কারণে বিপদে বা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে যাদের ইকামা বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ চলেগেছে, কিংবা যাদের নামে কফিলের পক্ষ থেকে ‘হুরুব’ করা হয়েছে, তাদের জন্য দেশে ফেরা বেশ কঠীন হতে পারে। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে প্রবাসীদের সাহায্যের জন্য ‘স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি আইনি সমস্যাই না পড়ে সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরতে পারেন। আজ আমরা বিস্তারিত জানবো এই প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে।
স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য
মূলত যারা অনেক দিন ধরে সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে আছেন বা বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশে যেতে পারছেন না, তাদের নিজ দেশে ফেরার পথ সহজ করাই এই প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য। এই কাজটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এতে কোনো দালালের হাতে পড়ার প্রয়োজন নেই।
কারা স্পেশাল ইক্সিট এর জন্য উপযুক্ত
আসলে সব প্রবাসী এই বিশেষ সেবা বা সুবিধার আওতায় পড়েন না। নিয়মগুলো ভালো করে বুঝে নিন কারা এই স্পেশাল ইক্সিট অয়াবে
যাদের কফিল রিয়াদ, আল কাসিম, হায়েল, আল জউফ, নর্দান বর্ডার এবং পূর্বাঞ্চল প্রদেশের বিভিন্ন মাকতাব আমলের আওতাভুক্ত।
যাদের ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা আপনি নতুন আসছেনাপ্নার আকামা দেই নাই কোন কারণে ।
যাদের নামে হুরুব আছে ।
আর যারা ‘সায়েক খাস’ (ড্রাইভার) এবং ‘আমেল মানজিলি’ (গৃহকর্মী) পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারাই শুধু এই স্পেশাল ইক্সিট এর জন্য আবেদন করতে পারবে ।
কারা এই স্পেশাল ইক্সিট এর জন্য উপযুক্ত না
যদি আপনার নামে সৌদি আরবে কোনো থানায় মামলা থাকে, আদালতে বিচার চলছে আপনার কোনো বিষয় থাকে, অথবা আপনি যদি ক্রিমিনাল হয়ে থাকেন ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে এই সাধারণ প্রক্রিয়ায় আপনি আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া যারা য়াগে এক্সিট ভিসা পেয়েও নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরে যান নি, তাদের ক্ষেত্রেও নিয়ম আলাদা হতে পারে। আবার স্পেশাল ইক্সিট নাও দিতে পারে
স্পেশাল ইক্সিট এর আবেদনের ধাপসমূহ
১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: প্রথমেই আপনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘স্পেশাল এক্সিট প্রোগ্রাম’ সংক্রান্ত লিঙ্কে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদনপত্রটি পূরণ করতে হবে। আবেদনের ফ্রম নিচে দেওয়া হলো
২. তথ্য যাচাই: আপনার ইকামার নম্বর বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর তা যাচাই করা হবে। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে, তাই সঠিক তথ্য প্রদান করবেন ।
৩. অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ডকুমেন্টেশন: আবেদন সফলভাবে শেষ হলে দূতাবাস থেকে আপনাকে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। যেটা আগে প্রথমে আলোচনা করেছি এই সাইট থেকে আপনি আপনার আকামা নাম্বার দিয়ে ডাউনলোড করে নিবেন । আর সেই নির্ধারিত দিনে আপনাকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইকামা, পাসপোর্ট কপি নিয়ে দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে।
৪. মাকতাব আমল ও জাওয়াজাত: রিয়াদের মাকতাব আমলের আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য দূতাবাস সরাসরি জাওয়াজাত অফিসের সাথে যোগাযোগ করে এক্সিট ক্লিয়ারেন্সের বা স্পেশাল ইক্সিট এর ব্যবস্থা করে দেয়। অন্য এলাকাত্র কর্মীদের ক্ষেত্রে দূতাবাস থেকে সুপারিশপত্র নিয়ে নিজে জাওয়াজাত অফিসে যোগাযোগ করতে হতে পারে।
প্রবাস গাইড সতর্কতা
এই প্রক্রিয়ায় কোনো টাকা-পয়সার লেনদেনের প্রয়োজন নেই। কোন দালাল ধরার প্রয়োজন নেই সব আপনি নিজে নিজে করতে পারবেন । অনেকে না বুঝে দালাল দের টাকা দিয়ে থাকেন, যা থেকে সাবধান থাকা উচিত। মনে রাখবেন, হুরুব বা ইকামার সমস্যা নিরসনে দূতাবাস সবসময় আপনার পাশে আছে। কোনো ধরনের তথ্য লুকাবেন না এবং সব সময় সঠিক কাগজপত্রের কপি নিজের কাছে রাখবেন।
শেষ কথা
প্রবাসী জীবন এমনিতেই কষ্টের , আর তার ওপর যদি আইনি সমস্যা তৈরি হয়, তবে মন মানসিকতা ঠিক থাকে না আর মানসিক চাপ বাড়ে। সৌদি আরবে স্পেশাল এক্সিট আপনার সেই সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ। এই কাজ ধীরস্থিরভাবে অনুসরণ করলে আপনি কোনো ঝামেলা ছাড়াই বৈধ উপায়ে দেশে ফিরতে পারবেন। আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে সহজেই দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ঢুকে আপডেট চেক করতে পারেন। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে সপ্ন আপনার ও বাড়ি যাবে ।
শবিশেষ দ্রষ্টব্য: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে বা নতুন কোনো আপডেট পেতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজ বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ওপর নিয়মিত নজর রাখুন।

