সৌদি আরবে কর্মরত সকল প্রবাসী ভাই ও বোনেদের জন্য সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (MHRSD) শ্রম আইনে বেশ কিছু দিক দিয়ে পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে যারা ইকামার মেয়াদ নিয়ে সমস্যায় আছেন বা কফিলের অনুমতি না পাওয়ায় কারণে চাকরি পরিবর্তন করতে পারছেন না, তাদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে সৌদি সরকার ।
আজকে আমরা আলোচনা করব কীভাবে ৩ মাস ইকামার মেয়াদ না থাকলে আপনি বর্তমান কফিলের অনুমতি ছাড়াই নতুন নিয়োগকর্তার বা কফিল বা কোণ কম্পানির কাছে কাফালা বা ট্রান্সফার হতে পারবেন।

সৌদি শ্রম আইনের নতুন নির্দেশনা ও প্রবাসীদের সুযোগ
সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সৌদি আরবের শ্রম বাজারকে আরও উন্নত ও আধুনিক করা হচ্ছে। এরই একটা অংশ হিসেবে নিয়ম করা হয়েছে যে, যদি কোনো শ্রমিকের আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টানা তিন মাস অতিবাহিত হয়ে যায় এবং কফিল তা নবায়ন না করেন, তবে সেই শ্রমিক আইনিভাবে স্বাধীন। সে চাইলেই বর্তমান কফিলের কোনো প্রকার দাব ছাড়া’ বা ওনুমতি ছাড়াই নতুন কোম্পানিতে বা অন্য কোণ কফিলের কাছে ট্রান্সফার হতে পারবে । এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং শ্রম বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
কফালা হওয়ার প্রধান শর্তাবলি দেখে নিন
এই প্রক্রিয়ায় সুবিধা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে আপনাকে ,
১. ইকামা মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা: ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবশ্যই আপনার ইকামা ৯০ দিন বা ৩ মাস এক্সপায়ার হতে হবে।
২. কিউয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার: পুরো প্রক্রিয়াটি বা কাজ টি ডিজিটালভাবে কিউয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। যাদের কিওয়া একাউন্ট নাই তারা কিওউন্ট আগেই খুলে রাখবেন বিষেশ করে যারা সৌদি আরবে নতুন আসতে চাচ্ছেন আসবেন
৩. হুরুব সংক্রান্ত তথ্য: আবেদনকারীর নামে কোনো ‘হুরুব’ বা কাজ থেকে পালিয়ে গেলে যে কফিল ভালো না কম্পানি ভালো না এইজন্য চলে আসছি এমন অযুহাতে লাভ হবে না । যদি হুরুব থাকে, এই নিয়মে কফালা হওয়া সম্ভব হবে না।আর যদি কফিল বা কম্পানি আপনাকে হুরুব না মারে তাহলে আপনি আপনার আকামার মেয়াদ ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেই যে কোন জায়গায় কাফালা হইয়ে যেতে পারবেন ।
৪. আর্থিক দায়বদ্ধতা: কফালা হওয়ার আগে প্রবাসীকে নিশ্চিত করতে হবে যে তার কোনো ট্রাফিক ফাইন বা কোন জরিমানা আছে কি না যদি জরিমানা থাকে তাহলে সেটা আগে পরিষোধ করতে হবে না হলে কাফালা হবে না বা আপনি যার কাছে কাফালা হবেন থাকে জানাবেন যে আমার এত টাকা জরিমানা আছে সে যদি দেই তাহলে দিবে আর যদি না দেই তাহলে আপনাকে নিজেই দিতে হবে কোন বন্ধু যাদের আকামা আছে তাকে আপমার জরিমানার একটা নাম্বার আছে সেই নাম্বার দিলেই হবে ।
কিউয়া (Qiwa) প্ল্যাটফর্মে আবেদন পদ্ধতি
বর্তমানে সৌদি আরবে কাগজ প্ত্র নথির চেয়ে ডিজিটাল সিস্টেমকে বেশি গুরুত্ব দেই। আপনার নতুন নিয়োগকর্তা যখন কিউয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনাকে একটি ‘জব অফার’ কন্টাক্ট পেপার পাঠাবেন, তখন আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ আসবে। যেখানে আপনি আপনার সব কিছু বিস্তারিত দেখতে পারবেন । আপনার বেতন কত রিয়াল ডিওটি কত ঘন্টা খাওয়া থাকা কার সপ্তাহ বন্ধ কইদিন কত বছর পড় ছুটী কতদিন ছুটি সব কিছু এই চুক্তি পত্র থাকবে
এপ্রোব করার আগে সব দেখে নিবেন ভালো করে সব কিছু ঠিক আছে কি না তারপর এক্সেপ্ট করবেন অনেক সমইয় বলে একটা আর কন্টাক্ট পেপার এ তার কিছু থাকে না ।চুক্তি পত্র থাকে আরাবি ইংরেজি আপনি সেটা গুগল ট্রান্সলেটরে বাংলা করে ভালো করে পড়ে নিবেন ।
আপনি যখন কিউয়া পোর্টালে লগইন করবেন করে সেই অফারটি গ্রহণ করলেই ট্রান্সফার এর কাজ শুরু হবে। যেহেতু আপনার ইকামার মেয়াদ ৩ মাসের বেশি নেই, তাই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার বর্তমান কফিলের অনুমতি ছাড়াই আবেদনটি গ্রহণ করে নেবে।
গৃহকর্মী বা হাউজ ড্রাইভারদের জন্য কি এই নিয়ম প্রযোজ্য?
এখানে একটি বিষয় জানা থাকা জরুরি যে, এই নিয়মটি মূলত আমেল আদি বা (General Workers) বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য। যারা হাউজ ড্রাইভার বা (সাইক খাস) বা গৃহকর্মী (আমেল মানজিল) হিসেবে কাজ করছেন, তাদের জন্য এই নিয়মটি সরাসরি কাজ করে না । তাদের ক্ষেত্রে কাফালা হওয়ার জন্য এখনো নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বা কফিলের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
সতর্কতা
প্রবাসীদের জন্য আমাদের প্রবাস গাইড এর পরামর্শ হলো, যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আপনার বর্তমান আইনি অবস্থা যাচাই করে নিন । তাই কেবল খবরের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সরাসরি ‘কিউয়া’ বা ‘আব্বাশির’ পোর্টালে আপনার স্ট্যাটাস চেক করুন।
মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে ইকামা না করলে সৌদি আরবে একটি বড় আইনি অপরাধ, যা বড় অংকের রিয়াল জরিমানা বা দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ হতে পারে।

