দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনেক প্রবাসীরা নানা রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বেতন আটকে থাকা, কফিলের অত্যাচার , আকামা সংক্রান্ত সমস্যা অথবা দালালের প্রতারণা এমন কি যেকোনো বিপদে আপনার পাশে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)। সঠিক জায়গায় অভিযোগ করার নিয়ম জানলে আপনি যে কোন সময়ে দ্রুত আইনি সাহায্য পেতে পারেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিএমইটি কোথায়?
আপনার প্রবাসিরা যদি সরাসরি বা দেশে থাকা পরিবারের মাধ্যমে বা আপনার বাড়ির কাউকে দিয়ে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে হয় তবে নিচের দেওয়া ঠিকানায় যেতে হবে।
- মন্ত্রণালয়ের ঠিকানা: দেশে থেকে যারা যোগাযোগ করবেন তাদের জন্য ঠিকানা হলো প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ৭১-৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড, ইস্কাটন গার্ডেন, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। অথবা গুগল ম্যাপ এ সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন
- বিএমইটি (BMET) ঠিকানা: ৮৯/২, ভিআইপি রোড, কাকরাইল, ঢাকা।বেশির ভাগ অভিযোগ এখানে গ্রহণ করা হয়।
জরুরি ফোন নম্বর ও হেল্পলাইন আছে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার
প্রবাসী ভাইদের কে আলাদা ভাবে সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশ সরকার একটা কল সেন্টার পরিচালনা করে, যা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
- প্রবাসবন্ধু হেল্পলাইন (বিদেশ থেকে): যদি আপনি বিদেশে থেকে কল করতে চান যে কোন দেশ থেকে এই নাম্বারে কল দিলেই যোগাযোগ করতে পারবেন +৮৮০৯৬৫৪৩৩৩৩৩৩ সরাসরি কল।
- টোল ফ্রি নম্বর বাংলাদেশ থেকে: ১৬১৩৫ এটা বিনামূল্যে কল।
- হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো (WhatsApp/Imo): +৮৮০১৭৮৪৩৩৩৩৩৩ অথবা +৮৮০১৭৯৪৩৩৩৩৩৩ এই নাম্বারে আপনি যে কোন সমইয় মেসেজ দিয়ে আপনার সমস্যার কথা জানাতে পারেন।
অভিযোগ করার বিভিন্ন মাধ্যম
আপনি যেকোনো দেশে থাকেন না কেন এই নিচের ৩টি উপায়ে অভিযোগ জানাতে পারেন
- অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে Amader Probashi সরকারের ‘আমাদের প্রবাসী’ নামে অ্যাপ বা বিএমইটি-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ও ঘরে বসেই অভিযোগ জমা দেওয়া যায়।
- ইমেইলের মাধ্যমে: আপনি যদি চান আপনার বিস্তারিত সমস্যা ইমেল এর মাধ্যমে লিখে পাঠাতে পারেন complaint@bmet.gov.bd অথবা minister@probashi.gov.bd ঠিকানায় ইমেইল করতে পারেন ২৪ ঘন্টা যে কোন সময়। ইমেইল করার সময় আপনার পাসপোর্ট নম্বর, আপনি যে দেশে আছেন সেই দেশের আইডি বা আকামা ভিসা কপি এবং মোবাইল নম্বর দিতে যুক্ত করে দিবেন ।
- দূতাবাসের মাধ্যমে আপনার যে আছেন সে দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইং-এ সরাসরি গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। খুব দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।
- সব দেশের দূতাবাস নাম্বার।
অভিযোগ করার সময় যা যা প্রয়োজন হবে
একটি শক্তিশালী অভিযোগ দেওয়ার জন্য আপনার কাছে নিচের এই তথ্যগুলো থাকতে হবে
১. আপনার পুরা নাম আর পাসপোর্ট নম্বর।
২. বিএমইটি (BMET) স্মার্ট কার্ড নম্বর। বিদেশে আসার আগে এটা সবাই কে দেওয়া হইয় ট্রেনিং দেওয়ার পড়ে
৩. যে এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে এসেছেন তার নাম ও ঠিকানা। আর এল বা রিক্রুটিং লাইসেন্স নাম্বার ।
৪. কফিল বা কোম্পানির নাম এবং আপনার বর্তমান অবস্থানের ঠিকানা।
৫. আপনার সমস্যার সম্পকে কোনো প্রমাণ যেমন আপমার বকেয়া বেতনের হিসাব যেমন টাইম শিট আপনার কত মাসের বেতন আটকিয়ে দিছে বা কোনো ডকুমেন্ট। এই অভিযোগ এর জন্য আপনাকে অবশ্যই বৈধ হতে হবে ।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড
যদি কোনো প্রবাসী বিদেশের মাঠিতে মারা যান বা গুরুতর অসুস্থ হন, তবে তার পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহায়তা দেওয়া থেকে শুরু করে এবং মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব এই ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডর। প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং প্রবাসী ঋণের বিষয়েও এখান থেকে দব তথ্য পাওয়া যায়।
বিদেশের মাটিতে আপনি নিজেকে কখনো অসহায় ভাববেন না। বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের সুরক্ষায্র জন্য এই আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। “প্রবাস গাইড”এর হলো । আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসিরা যে কোন সমস্যা হলে আগে দালালে এর সাথে যোগাযোগ করে কিছু না যেনে না ভুঝে যেকোনো সমস্যা হলে দালালের কাছে না গিয়ে সরাসরি সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। আপনার একটি সঠিক অভিযোগ কেবল আপনার সমস্যার সমাধান করবে না, বরংআপনার এবং অন্য কোনো প্রবাসীকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করবে।

