ব্যাংকে বা সরকারি অফিসে আপনার সই (Signature) মিলছে না? প্রবাসে আইনি বিপদ এড়ানোর উপায়
প্রবাসে ৫-১০ বছর থাকার পর অনেক সময় দেখা যায় আমাদের হাতের লেখা বা সই করার স্টাইল বদলে গেছে। কিন্তু আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ইনস্যুরেন্স বা পাসপোর্ট অফিসে আপনার পুরনো সই ই থাকে। যখন কোনো জরুরি কাজে আপনার সই মিলবে না, তখন আপনাকে ভুয়া জালিয়াতি বা অন্য কোন ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহ করা হতে পারে। আজ আমরা জানবো প্রবাসে সইয়ের মিল না থাকলে কীভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে এটি সমাধান করবেন।
কেন সইয়ের অমিল হয় এবং এর আইনি সমস্যা কি
বয়স বাড়ার সাথে সাথে বা শারীরিক কোনো অসুস্থতার কারণে মানুষের হাতের লেখা পরিবর্তন হইয়ে যায় আর অনেকে প্রবাসে কাজ করতে করতে হাতের অবস্থা খারাফ হইয়ে যায়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: আপনি যখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে যাবেন বা কোনো কন্ট্রাক্টে সই করবেন, তখন ব্যাংক যদি দেখে আপনার পুরনো সইয়ের সাথে বর্তমান সই মিলছে না তখন তারা আপনার একাউন্ট সাথে সাথে বাদ করে দেবে। তারা মনে করবে আপনার একাউন্ট কেউ হ্যাক করেছে। এটি আপনাকে পুলিশি সমস্যার মধ্যে ফেলতে পারে।
দূতাবাস থেকে স্বাক্ষর সত্যায়ন
যদি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনার সই বদলে গেছে দেখছেন যে আগের মত আর কোন ভাবেই আপনার সই মিলছে না তবে আগেই ব্যবস্থা নিন। কি ব্যাবস্থা নিবেন ?প্রথমে আপনার দেশের দূতাবাসে গিয়ে একটি ‘Signature Attestation’ ফরম পূরণ করুন। সেখানে আপনি আপনার পুরনো সই এবং বর্তমান নতুন সই দুটোই করবেন। দূতাবাসের অফিসার সেটি সত্যায়িত করে দেবে। এই কাগজটি আপনার পাসপোর্টের সাথে রাখুন। যেকোনো ব্যাংক বা সরকারি অফিস এটি দেখলে আপনার বর্তমান সই গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
ব্যাংকে সিগনেচার কার্ড আপডেট করা
আপনার বিদেশের ব্যাংক একাউন্টে যদি পুরনো সই থাকে, তবে একদিন সময় নিয়ে ব্যাংকে যান। গিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারকে বলুন আপনি আপনার সই পাল্টাতে চান। তারা আপনাকে একটি নতুন ‘ সই কাড দেবে। সেখানে নতুন করে সই করুন এবং পাসপোর্ট বা আইডি কাড এর কপি লাগবে। এটি করলে ভবিষ্যতে বড় কোন লেনদেন বা চেক জমা দেওয়ার সময় আপনি আর কোনো ঝামেলায় পড়বেন না।
ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করা
ইউরোপ বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশে এখন কাগজের সইয়ের বদলে ডিজিটাল সই জনপ্রিয় বেশি। অনেক এর হাত কাপে সই একটার সাথে আরেক টা ,মিলে না যদি আপনার হাতের লেখা খুব বেশি কাঁপে বা সই এক রকম না হয়, তবে ডিজিটাল কী বা ই-সিগনেচার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। অনেক ব্যাংক এখন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি দিয়েও লেনদেনের অনুমতি দেয়। আপনার প্রোফাইলে বায়োমেট্রিক অপশন চালু রাখুন যাতে সই না মিললেও আঙুলের ছাপে কাজ হয়ে যায়।
সই না মিললে পুলিশি জেরায় করণীয়
যদি ভুলবশত পুলিশ আপনাকে সই না মেলার কারণে জেরা করে, তবে ভয় না পেয়ে শান্ত থাকুন।তাদের আপনার পুরনো কিছু কাগজ যেমন: পুরনো ডায়েরি, আগের কোনো সই করা কাগজ বা আইডি কার্ড দেখান। তাদের বলুন যে এটি কোনো জালিয়াতি নয় বরং বয়সের কারণে বা অভ্যাসের কারণে বদলে গেছে। ফরেনসিক ল্যাবে সই পরীক্ষা করলে দেখা যায় সই দেখতে আলাদা হলেও কলমের চাপ বা লেখার ধরন একই থাকে। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
প্রবাসে আপনার সই আপনার পরিচয়। সই করার সময় সবসময় সচেতন থাকুন এবং সেটি একই রকম রাখার চেষ্টা করুন। যদি মিল না থাকে , তবে আইনিভাবে তা আপডেট করে নিন। আপনার একটি ছোট সচেতনতা আপনাকে অনেক বড় পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

