প্রবাসে মৃত্যু হলে বকেয়া টাকা ও ক্ষতিপূরণ পাবেন কীভাবে? পরিবারের জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইড
বিদেশে প্রবাসি ভাই বোনেরা কাজ করা অবস্থায় কোনো প্রবাসী যদি মারা যায় স্বাভাবিক মৃত্যু বা দুর্ঘটনায় তার পরিবার শুধু শোক পালন করে। কিন্তু এই প্রবাসীর রেখে যাওয়া বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট এবং ইন্স্যুরেন্সের টাকা উদ্ধার করা পরিবারের আইনগত অধিকার। সঠিক নিয়ম না জানলে এই টাকা আজীবন কোম্পানির সিন্দুকেই পরে থাকে। আজ আমরা জানবো মৃত প্রবাসীর পাওনা টাকা বুঝে পাওয়ার সঠিক আইনি ধাপগুলো কি কি ।
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি’ বা আমমোক্তারনামা তৈরি
মৃত ব্যক্তির টাকা উদ্ধার করতে হলে পরিবারকে প্রথমেই একজন আইনি উকিল বা কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে। মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ যারা আছেন যেমন স্ত্রী, সন্তান বা বাবা-মা এর পক্ষ থেকে একজনের নামে একটি পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা তৈরি করতে হবে। এটি স্থানীয় ডিসি অফিস বা আদালত থেকে তৈরি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আপনি যে দেশে থাকেন সেই দেশের দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হবে। এই কাগজ ছাড়া বিদেশি কোম্পানি বা ব্যাংক কাউকে টাকা দেবে না।
বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট
অনেকে জানি না ভালো কম্পানি যেইগুলা আছে আর মৃত ব্যক্তি বিদেশে যত বছর ওই কোম্পানিতে কাজ করেছেন, তার বিপরীতে একটি বড় অংকের টাকা বা সার্ভিস বেনিফিট জমা হয়।কোম্পানিকে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সনদ দেখিয়ে এই টাকা দাবি করতে হয়। যদি কোম্পানি দিতে মানা করে, তবে দূতাবাসের লেবার উইং এ অভিযোগ করলে তারা কোম্পানির অ্যাকাউন্ট থেকে এই টাকা আদায় করে মৃত ব্যক্তির দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যু
যদি ডিওটিতে বা কোম্পানির গাড়িতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়, তবে পরিবার বড় অংকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য কারণ এটা কম্পানির উপর কম্পানির কাজের টাইমে মারা গেছে ।সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে একে আরবীতে দিয়াহ বা রক্তপণ বলা হয়। এক্ষেত্রে থানায় করা পুলিশ রিপোর্টের কপি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। যদি রিপোর্টে কোম্পানির কোন অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে আদালত কোম্পানিকে কয়েক লাখ রিয়াল বা দিরহাম জরিমানা করতে পারে যা সরাসরি মৃত ব্যক্তির পরিবার পাবে।
ব্যাংক একাউন্টে থাকা টাকা উদ্ধার
মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে যদি টাকা থাকে, তবে সেই টাকা তোলা সাধারণ কার্ড দিয়ে সম্ভব না । ব্যাংকে সাকসেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। এটি আদালত থেকে নিতে হয় যা প্রমাণ করে যে আপনিই ওই ব্যক্তির আসল উত্তরাধিকারী। এরপর ব্যাংক ওই টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরাসরি মৃত ব্যক্তির দেশের একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। কারন মারা গেছে তার কাড দিয়ে আপনি টাকা তুললে পুলিশি ঝামেলায় জড়িয়ে যাবেন ।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে আর্থিক সাহায্য
প্রবাসি বিদেশের মাঠিতে মারা গেলে শুধু কোম্পানি নয়, নিজ দেশের সরকার থেকেও পরিবার টাকা পায়। তবে আপনাকে সে প্রক্রিয়া জানতে হবে । বাংলাদেশসহ অনেক দেশের প্রবাসীরা যাওয়ার আগে কল্যাণ বোর্ডে নাম লেখান যা বি এম ইটি কাড । প্রবাসী মারা গেলে লাশ দাফন এবং পরিবারের সহায়তার জন্য সরকার ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান দেয়। এর জন্য মৃত ব্যক্তির স্মার্ট কার্ডের কপি এবং পাসপোর্টের কপি দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করতে হয়। সঠীক পদ্ধতিতে আবেদন করলে আপনি এই টাকা পাবেন ।
মানুষ যি একবার এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না, কিন্তু তার রেখে যাওয়া সম্পদ তার স্ত্রী সন্তানের হক। প্রবাসে কারো আত্নীয় স্বজন মারা গেলে ভেঙে না পড়ে দ্রুত দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করুন এবং আইনি কাগজ পত্র গুছিয়ে ফেলুন। আপনার একটি সঠিক পদক্ষেপ অসহায় পরিবারটিকে পথে বসা থেকে রক্ষা করতে পারে।

