পড়াশোনা নাকি প্রবাস? মেয়েদের বিয়ের আগে বিদেশ আসার ঝুঁকি ও সঠিক সিদ্ধান্ত
আমাদের বাংলাদেশের অনেক অনেক মেয়ে মনে করেন, পড়াশোনা করে কী হবে? তার চেয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা কামাই করি। আবার অনেকে মেয়ে মনে করেন, বিয়ে করে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার চেয়ে বিদেশে গিয়ে স্বাধীন হওয়া ভালো স্বাধিনতা খুজে নিজের ইচ্ছামতো চলার জন্য । কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন। সঠিক শিক্ষা ছাড়া একজন মেয়ের প্রবাস জীবন যেমন কষ্টের, তেমনি কোন নিশ্চিত নাই। আজ আমরা জানবো কেন অন্তত পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে আসা কেন উচিত নয়।
দালালের প্রতারণা বোঝার ক্ষমতা
আপনি যদি একজন জন অশিক্ষিত কম শিক্ষিত হন তাহলে আপনার জন্য বিদেশের এই কঠীন আইনি কাগজ প্ত্র ও দালালের চুক্তিনামা কিভাবে ভুঝবেন আপনার পক্ষে বোঝা প্রাই অসম্ভব।
বাস্তব সত্য: দালালরা আপনাকে দিয়ে এমন কাগজে সই করিয়ে নিতে পারে যাতে লেখা আছে আপনি বেতন কম পেলেও অভিযোগ করতে পারবেন না কারন আপনি চুক্তি তে না দেখে সই করেছে আপনি জানেন ই না কি লেখা আছে। পড়াশোনা জানা থাকলে আপনি নিজের চুক্তি নিজে পড়তে পারবেন এবং দালালের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবেন। যে আমাকে বলছেন আর চুক্তিতে কি লিখেছেন শিক্ষা আপনাকে আত্মবিশ্বাস দেয়, যা বিদেশে টিকে থাকার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।
বেতন কম ও ভালো পদের অভাব
আপনি যদি কমমক্ষেে এইচএসসি (HSC) বা সমমান পাস না করেন, তবে বিদেশে আপনার জন্য শুধু ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মী’ বা ‘গৃহকর্মী’র কাজ ছাড়া আর কিছু থাকবে না। ভালো কম্পানি কাজ না হওয়ার সম্ভাবনা ই বেশি ।
গোপন তথ্য: সামান্য পড়াশোনা এবং ইংরেজি জানা থাকলে আপনি সেলস গার্ল, রিসেপশনিস্ট বা শপিং মলে কাজ পেতে পারেন। যেখানে কাজের সময় নির্দিষ্ট ৮ ঘন্টা ১০ ঘন্টা এমন এবং সম্মান অনেক বেশি বেতন ও অনেক বেশি । পড়াশোনা না থাকলে আপনাকে দিনরাত অন্যের বাড়িতে পড়ে থাকতে হবে, যেখানে বাইরের পৃথিবীর সাথে আপনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বেতন কম ডিওটির কোন হিসাব নাই কাজের কোন পরিমাণ নাই বাসা বারির কাজ আসলে মালিক কেমন তার উপর আপনার মালিক যদি ভালো হয় তাহলে ত ভালো।
বিয়ের আগে বিদেশ আসার সামাজিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি
বিয়ের আগে বিদেশে আসলে অনেক সময় মেয়েরা একা হয়ে পড়েন এবং ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে সব হারান। আর অনেকে বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে যায় ।
স্মার্ট পরামর্শ: পড়াশোনা শেষ না করে বিদেশে আসলে আপনার ক্যারিয়ারের খুটী মজবুত হবে না। পরে দেশে গিয়ে বিয়ে করতে চাইলে বা অন্য কোনো ভালো কাজ খুঁজতে গেলে আপনি বড় সমস্যায় পড়বেন। কারণ আপনার কাছে কোনো ডিগ্রি থাকবে না। তাই অন্তত স্নাতক বা একটি কারিগরি শিক্ষা শেষ করে আসার চেষ্টা করুন ।
ডিজিটাল যুগে পিছিয়ে পড়া
আপনি জানেন বিদেশে এখন সবকিছুই ডিজিটাল অ্যাপ দিয়ে বাসের টিকিট কাটা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং করা পর্যন্ত। সব কিছুই আপনার জানতে হলে পড়াশোনার দরকার আছে ।
সতর্কতা: পড়াশোনা না জানলে আপনি এই ডিজিটাল দুনিয়ায় অন্ধের মতো চলবেন। টাকা পাঠানোর সময় বা ইকামা রিনিউ করার সময় আপনাকে সবসময় অন্যের সাহায্য নিতে হবে সব সময়। এই সুযোগে অনেকে আপনার গোপন পিন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। বা আপনার কষ্টের ইনকামের টাকা সব নিয়ে যেতে পারে ।
আইনি সুরক্ষা ও নিজের অধিকার জানা
বিদেশের প্রতিটি দেশে নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ আইন আছে।
অভিজ্ঞতার টিপস: আপনি যদি পড়তে না পারেন, তবে আপনার অধিকারের কথা যেমন- হ্যারাসমেন্ট বা বেতন নিয়ে আইন)আপনি জানবেন না। শিক্ষিত মেয়েরা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে এবং পুলিশ বা দূতাবাসকে সঠিকভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে পারে। অশিক্ষিত হওয়ার কারণে অনেক বোনকে দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে হয় কারণ তারা জানেই না কোথায় অভিযোগ করতে হবে।
টাকা কামানোর চেয়ে নিজেকে যোগ্য করে তোলা বেশি জরুরি। বোনদের প্রতি প্রবাস গাইড এর পরামর্শ আগে পড়াশোনা শেষ করুন অথবা একটি সম্মানজনক কাজ শিখে নিন। পড়াশোনা জানা থাকলে প্রবাসে আপনাকে কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। জেনে রাখবেন, শিক্ষা হলো আপনার পাসপোর্টের চেয়েও দামী একটি সম্পদ যা আপনাকে সারা জীবন সুরক্ষা দেবে। আর শিক্ষার কাউকে ভাগ দিতে হবে না ।

