বর্তমানে বাংলাদেশে অধিকাংশ লোক প্রবাস হিসেবে সৌদি আরব বেচে নিচ্ছেন । সৌদি আরব সরকার তাদের ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পর্যটন এবং প্রবাসীদের পরিবারের যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক সহজ ভাবে তৈরি করেছে। বর্তমানে একজন প্রবাসী খুব সহজেই তার বাবা-মা, স্ত্রী বা সন্তানদের সৌদি আরবে নিয়ে আসতে পারেন। তবে ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে ইন্স্যুরেন্স এবং ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা ভিজিট ভিসার আবেদন থেকে শুরু করে মেয়াদ বাড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ভিজিট ভিসার প্রকারভেদ
সৌদি আরবে মূলত দুই ধরনের ভিজিট ভিসা প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশি
- ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা আসুন জানি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসায় কাদের কাদের আনা যাবে এটি শুধুমাত্র প্রবাসীদের নিকটাত্মীয়দের (বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি) জন্য ইস্যু করা হয়। বাহিরে কারো জন্য বা দুরের কোন আত্নিয় স্বজন আসতে পারবে না এই ফ্যামিলি ভিজিট ভিসায়।
- পার্সোনাল বা ব্যক্তিগত ভিজিট ভিসা: এটি বন্ধু-বান্ধব বা অন্য পরিচিতদের নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়।
আবেদনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি ও নথিপত্র
আসুন জানি কি কি কাগজ লাগবে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার আবেদন করার কাগজের পাশাপাশি প্রবাসীর নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে যেমন,
- প্রবাসীর আকামার মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে। আকামা এক্সপায়ার হুরুব থাকলে চলবে না ।
- প্রবাসীর পেশা যদি ‘আমেল আদি’ (সাধারণ শ্রমিক) হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি আবেদনের সুযোগ থাকে না, তবে বর্তমানে ‘কিওয়া’ ও ‘আবশার’ এর মাধ্যমে অনেক পেশয় এই সমস্যা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে।
- আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
- যাকে আনবে সে আপনার কি হইয় তা প্রমাণ করার জন্য কাবিননামা বা জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি
আবেদন এর কাজ অনেক সহজ পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় তাহলে আবেদন এর সিস্টেম টা দেখে নিন ,
ভিজা প্ল্যাটফর্ম প্রথমে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা visa.mofa.gov.sa পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
চেম্বার কমার্স আবেদন সাবমিট করার পর আপনার কফিল বা কোম্পানির মাধ্যমে সেটি অনলাইনে চেম্বার বা অ্যাটেস্টেশন করাতে হবে।
ভিসা ইস্যু চেম্বার সফল হলে কয়েক দিনের মধ্যেই আপনার ভিসাটি এপ্রুভ হয়ে যাবে এবং একটি ভিসা নম্বর ইস্যু করা হবে। এরপর সেটি দিয়ে নিজ দেশ থেকে স্ট্যাম্পিং করিয়ে নিতে হবে।
ভিসা নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানোর নিয়ম
ভিজিট ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকেন। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী:
- সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা এটি সাধারণত ৩০ দিনের হয়। এটি সর্বোচ্চ ১৮০ দিন বা ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭ দিন আগে থেকে আবশার পোর্টালে গিয়ে এটি রিনিউ করা যায়। তাই সব সময় চেক করবেন মেয়াদ যাতে চলে না যায় ।
- মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা এই ভিসার মেয়াদ ১ বছর থাকলেও প্রতি ৯০ দিন পর পর দেশ ত্যাগ করতে হয় অথবা বর্ডার ক্রস করতে হয়। বর্তমানে ‘আবশার’ এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি এবং ইন্স্যুরেন্স দিয়ে ঘরে বসেই মেয়াদ বাড়ানোর যায় ।
মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স ও জরিমানা
ভিজিট ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘হেলথ ইন্স্যুরেন্স’। ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ যদি এক বার শেষ হয়ে যায় তাহলে আপনি কোনোভাবেই ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। এর জন্য আগে ইন্সুরেন্স নতুন করে করার পড়ে মেয়াদ বাড়াতে পারবেন । এছাড়া ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে বড় অঙ্কের রিয়াল জরিমানা হতে পাড়ে এবং ভবিষ্যতে সৌদি আরবে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি বা রেড সিল হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ টিপস
- আগেভাগে রিনিউ করুন আপনার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩-৫ দিন আগেই রিনিউয়াল প্রসেস শুরু করুন। শেষ মুহূর্তে্ কোণ সমস্যার কারণে আপনার রিনিওতে সমস্যা হতে পারে ।
- ইনস্যুরেন্স যাচাই সবসময় কোম্পানির যাচাই করে ইন্স্যুরেন্স কিনুন, যাতে আবশারে সেটি দ্রুত আপডেট হয়।
- বর্ডার ক্রস মাল্টিপল ভিসার ক্ষেত্রে যদি অনলাইনে রিনিউ না করতে পারেন , তাহলে বাহরাইন বা জর্ডান বর্ডার দিয়ে এক্সিট-রিএন্ট্রি করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন।
পরিবারকে কাছে পাওয়া মানে প্রবাস জীবনের অন্যতম সুখ। সৌদি সরকারের নতুন নিয়মগুলো প্রবাসীদের এই সুযোগকে আরও সহজ করে দিয়েছে। “প্রবাস গাইড” এর পরামর্শ হলো—দালালদের পেছনে না ছুটে নিজে নিজে আবশার ও মোফা পোর্টাল ব্যবহার করতে শিখুন। এতে আপনার টাকা বাঁচবে এবং আপনি প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

