সৌদি আরবে একজন প্রবাসীর প্রধান পরিচয় হলো তার আকামা আকামা না থাকলে সে অবৈধ । কোনো কারণে যদি আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় সাথে সাথে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় এবং আপনি পুলিশের ঝামেলার পড়েন সব সমইয় পুলিশের ভয় থাকে । অনেক সময় কফিল বা কোম্পানি টাকা জমা না দেওয়ার কারণে ১ বছর, ২ বছর বা এর ও বেশি সময় আকামা এক্সপায়ার থাকে। ২০২৬ সালের বর্তমান কড়া আইনের যুগে দীর্ঘদিন আকামা না থাকলে জরিমানার টাকা বা ফি পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়ায়। আজ আমরা জানবো আকামা এক্সপায়ার হলে কী করণীয় এবং ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত নবায়নের জন্য মাকতাবুল আমল ও জাওয়াজাত ফি’র এর সঠিক হিসেব।
আকামা এক্সপায়ার হওয়ার সাথে সাথে জরিমানা ।
আকামা এক্সপায়ার হওয়ার পর প্রথম যে জরিমানাটা আসে সেটা হলো জাওয়াজাত বা (ইমিগ্রেশন) এর জরিমানা:
প্রথমবার মেয়াদ শেষ হলে আপনাকে ৫০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা দিতে হবে নতুন করে আকামা করলে ।
দ্বিতীয়বার মেয়াদ শেষ হলে আপনাকে দিতে হবে ১,০০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা।
তৃতীয়বার মেয়াদ শেষ হলে ১,০০০ রিয়াল জরিমানা দিয়ে এবংঅনেক সমইয় দেশ থেকে পাঠিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে
মাকতাবুল আমল এর খরচ বা ফি
অনেক দিন আপনার আকামা না থাকার প্রধান কারণ হলো এই ‘মাকতাবুল আমেল এর টাকা বা ‘ ফি । এটি মূলত সৌদি সরকার নির্ধারিত শ্রম ফি।
বার্ষিক খরচ কত : প্রতি বছর একজন প্রবাসি কর্মীর জন্য মাকতাবুল আমেল খরচ বা ফি হলো ৯,৬০০ রিয়াল যদি কোম্পানিতে সৌদি কর্মীর চেয়ে বিদেশি বেশি হয়। কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের বা ( মুয়াসাসার ) ক্ষেত্রে প্রথম ৯ জন কর্মীর জন্য এই ফি কিছুটা কম হতে পারে যা ১০০ রিয়াল এ আসতে পারে ।
হিসেব: আপনার যদি ২ বছর আকামা না থাকে বা এক্সপায়ার থাকে , তবে শুধু মাকতাবুল আমল ফি ই দিতে হবে ৯,৬০০ *২ = ১৯,২০০ রিয়াল। ৩ বছর হলে এটি হবে ২৮,৮০০ রিয়াল।
সর্বমোট নবায়ন খরচ কত : ১, ২ ও ৩ বছরের জন্য হিসাব (২০২৬ আপডেট)
আকামা নবায়ন করতে হলে মাকতাবুল আমেল ফি, জাওয়াজাত ফি এবং ইনস্যুরেন্স ফি একসাথে দিতে হয়। যা ১ বছরের জন্য মাকতাবুল আমেল আসে ৯,৬০০ + জাওয়াজাত ৬৫০ + ইনস্যুরেন্স (গড় ৫০০) ইন্সুরেন্স বয়স বেধে কম বেশি হতে পারে + জরিমানা ৫০০ = প্রায় ১১,২৫০ রিয়াল। এটা ১ বছর যাদের আকামা নাই তাদের জন্য হিসাব ।
২ বছরের জন্য (৯,৬০০ *২) + (৬৫০ * ২) + (৫০০ x*২) + ১,০০০ জরিমানা বা গ্রামা = প্রায় ২১,৯০০ রিয়াল আসবে ।
৩ বছরের জন্য (৯,৬০০ * ৩) + (৬৫০ x*৩) + (৫০০ * ৩) + ১,০০০ জরিমানা = যা প্রায় ৩২,২৫০ রিয়াল।
এই খরচ কোম্পানির আকার ছোট বড় এবং ক্যাটাগরি ভেদে এই ফি সামান্য কম-বেশি হতে পারে।)
আকামা না থাকলে কী করণীয়?
যদি আপনার আকামা অনেক দিনের এক্সপায়ার থাকে, তবে আপনার সামনে দুটি পথ খোলা আছে
১ যে কোন কফিলের মাধ্যমে নবায়ন করা আপনার কফিল যদি রাজি থাকে, তবে মাকতাবুল আমেল পোর্টালে গিয়ে সব বকেয়া টাকা পরিশোধ করে আকামা নবায়ন করতে হবে। মনে রাখবেন, সরকারি সিস্টেম এখন ডিজিটাল, তাই কিস্তিতে টাকা দেওয়ার সুযোগ খুব সীমিত। সব একসাথে জমা দিতে হয়।
২ কাফালা হওয়া বা (Transfer) যদি আপনার বর্তমান কফিল আপনাকে আকামা না করে দেয়, তবে আপনি অন্য কফিল বা কোম্পানিতে কাফালা হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, আকামা এক্সপায়ার থাকলে আপনি বর্তমান কফিলের অনুমতি ছাড়াই অন্য যে কোণ কফিল বা কম্পানিতে কাফালা হতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার বকেয়া সব ফি নতুন কফিলকে বহন করতে হবে।
মাকতাবুল আমল ফি চেক করার নিয়ম
দালালরা অনেক সময় ফি এর টাকার অংক বেশি বলে টাকা নেয় মিথ্যা বলে । আপনি নিজেই মাকতাবুল আমল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Sadad’ নম্বরের মাধ্যমে চেক করতে পারেন আপনার কত টাকা বকেয়া আছে। এর জন্য আপনার আকামা নম্বর বা বর্ডার নম্বর দরকার হবে। সবসময় চেষ্টা করবেন সরাসরি ব্যাংকের (Al Rajhi বা SNB) মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দিতে।
ফ্রি ভিসা বা আমেল মঞ্জিলদের জন্য খরচ
হাউজ ড্রাইভার বা যারা ব্যক্তিগত কফিলের অধীনে কাজ করেন, তাদের মাকতাবুল আমল ফি (৯,৬০০ রিয়াল) দিতে হয় না। তাদের খরচ বছরে মাত্র ৬০০-১,০০০ রিয়ালের মতো। তবে তাদেরও আকামা এক্সপায়ার হলে জাওয়াজাত জরিমানা গুণতে হয়।
আকামা এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। দীর্ঘদিনের আকামা এক্সপায়ার থাকলে পড়ে জরিমানা সব টাকা মিলিয়ে বকেয়া ফি পরিশোধ করা একজন সাধারণ প্রবাসি বা শ্রমিকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক মাস আগেই কফিলকে নবায়নের জন্য তাগদা দিন। যদি কফিল না করে, তবে আইন অনুযায়ী লেবার অফিসে অভিযোগ করুন বা কাফালা হওয়ার সুযোগ খুঁজুন। “প্রবাস গাইড” সবসময় আপনাকে সঠিক খরচের হিসেব দিয়ে প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।

