সৌদি আরবে বর্তমানে ‘কাফালা’ বা কফিল পরিবর্তন এর সিস্টেম টা আগের চেয়ে অনেক সহজ ডিজিটাল করা হয়েছে। কিন্তু সহজ হওয়ার পাশাপাশি এই কাফালা হওয়ার সময় অনেক প্রতারণার ও দালাল এর হারও অনেক বেড়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, নতুন কফিল বা কোম্পানি অনেক লোভ দেখানো কথা বলে বা কথা দেয়, যে বেতম ৩ হাজার রিয়াল দিব থাকা খাওয়া সব আমার দালাল এর মত কিন্তু কাফালা হওয়ার পর দেখা যায় বাস্তব সম্পূর্ণ আলাদা পরে সব প্রবাসিরা বিপদে পড়ে । তাই আপনার বর্তমান কফিল থেকে নতুন কফিলের কাছে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে কিছু বিশেষ বিষয় অবশ্যই চেক করতে হবে। আজকের এই গাইডে সেই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। প্রবাস গাইড এর সাথেই থাকুন ।
নতুন কফিলের যাওয়ার আগে তার কম্পানির স্টাটাস দেখুন
বর্তমানে সৌদি আরবে কাফালা হওয়ার সব কাজ ‘Qiwa’ কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হয়। আপনি যেখানে ই কাফালা হোন না কেন কম্পানি বা কফিল তারা প্রথমে আপনার কিওয়া একাউন্টে চাকরি বা কাজের চুক্তি পত্র লিখা থাকবে বেতন সব কিছু যদি আপনি সে চুক্তি প্ত্র সাইন বা এক্সেপ্ট করেন কিওয়া তে সাইন করা যায় না সেখানে গ্রহণ করুন বাটম আছে বা এপ্রোব সেখানে চাপ দিলেই আপনার নতুন কাপালার কাজ শেষ হবে পরে সব দায়িত্ব নতুন কফিল বা কম্পানির । এপ্রোভ করার আগে আপনা কিছু বিষয় চেক করার দরকার যেমন,
- কোম্পানির রেড/গ্রিন স্ট্যাটাস: নতুন কফিল বা কোম্পানি যদি ‘নিতাকাত’ পদ্ধতিতে লাল (Red) বা হলুদ (Yellow) ক্যাটাগরিতে থাকে, তবে সেখানে কাফালা হওয়া আপনার জন্য সমস্যা হতে পারে । সব সময় সবুজ (Green) বা প্লাটিনাম ক্যাটাগরির কোম্পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । রেড বা লাল মানে কম্পানি বা কফিল এর সমস্যা আছে । [ কম্পানি বা কফিল এর স্টাটাস দেখুন ]
- কিওয়া অফার লেটার: অফার লেটারে আপনি কি কাজ করবেন কি কাজ , ডিউটি টাইম এবং মূল বেতনের কথা সুন্দ র ভাবে লেখা আছে কি না তা ভালো করে দেখুন ।
বেতন ও আর্থিক সুবিধাদি নিশ্চিত করা
মুখে এক বেতন আর চুক্তিতে আর এক বেতন—এটি অনেক কোম্পানির চালাকি বা কৌশল। এজন্য কাফালা হওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো দেখে নিন
বেসিক স্যালারি: চুক্তিতে আপনার মূল বেতন কত তা ভালো করে দেখুন। মনে রাখবেন, ওভারটাইম বা অন্যান্য এলাউন্স সবসময় পরিবর্তনশীল হতে পারে, তাই মূল বেতন বেশি হওয়া জরুরি। যদি কম থাকি কফিল বা কম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন এপ্রোভ করবেন না যদি একবার এপ্রোভ করেন এপ্রোভ মানে সাইন যদি একবার সাইন করেন তাহলে সেটা তে আপনি রাজি আছেন চুক্তিতে তাইন ভালো করে সব কিছু দেখে এপ্রোভ করবেন ।
বেতন কিভাবে দেই : কোম্পানিটি ‘Wages Protection System’ বা (WPS) এর আওতায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন দেয় কি না তা নিশ্চিত হোন। হাতে হাতে বেতন নেওয়া বর্তমানে আইনত ঝুঁকিপূর্ণ।
কাজের চুক্তিপত্র বা কন্ট্রাক্ট (Contract) রিভিউ
সৌদি আরবে এখন কিওয়া কন্টাক্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক। এটা ছাড়া কাফালা হবে না সম্ভব না । নতুন কফিল আপনাকে যে চুক্তিপত্রটি পাঠাবে, সেখানে নিচের ৩ টি পয়েন্ট অবশ্যই চেক করবেন:
চুক্তির মেয়াদ: চুক্তির মেয়াদ কি ১ বছর নাকি ২ বছরের চুক্তি? মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ করবে কী?
ছুটি ও টিকেট: বছরে বা দুই বছরে কতদিন ছুটি পাবেন এবং আসা-যাওয়ার টিকেট কোম্পানি দেবে কি না তা পরিষ্কার ঐখানে সব লেখা আছে ।
সমাপ্তির শর্ত (Termination): যদি আপনি কাজ ছাড়তে চান বা কোম্পানি আপনাকে বাদ দিতে চায়, তবে আপনাকে ঠিক কত দিন আগে নোটিশ দিতে হবে তা দেখে নিন।
আকামা ও ইন্স্যুরেন্স ফি কার ওপর?
সৌদি আইন অনুযায়ী আকামা নবায়ন এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ সব কম্পানি বা কফিলের। তবে কিছু দালাল বা ছোট কফিল বা সাপ্লাই কোম্পানি প্রবাসীদের বেতন থেকে এই টাকা কেটে নেয়। তাই কাফালা হওয়ার আগেই সব বিষয় কথা বলে নিন যে, আকামা রিনিউয়ালের যাবতীয় খরচ কে বহন করবে। ইন্সুরেন্স কে করে দিবে ।
এক্সিট-রিএন্ট্রি ও কাফালা ফি
নতুন কফিলের কাছে কাফালা হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সরকারি ফি দিতে হয় যা আপনি প্রথমবার কাফালা হলে ২,০০০ রিয়াল, আর দ্বিতীয়বার হলে ৪,০০০ রিয়াল)। এই ফি সাধারণত নতুন কফিল পরিশোধ করে। এছাড়া আপনার যদি আগের কোনো ট্রাফিক জরিমানা গ্রামা থাকে, তবে সেগুলো কে দেবে তা আগে থেকেই সব কথা বলে নিন । কারণ জরিমানা থাকলে অনেক সময় কাফালার কাজ সম্পন্ন হয় না।
নতুন কাজের থাকার জায়গা
যদি সম্ভব হয়, ওই কফিলের অধীনে আগে থেকে কাজ করছে এমন কোনো প্রবাসী ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করুন । কোম্পানির থাকার রুম বা (Accommodation), পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে একটা ধারণা নিন।
কাফালা হওয়া মানে কেবল শুধু কম্পানি বা কফিল পরিবর্তন করা নয়, বরং এটি আপনার প্রবাস জীবনের নতুন একটি শুরু । তাই তাড়াহুড়ো করে বা দালালের কথায় খুশি না হয়ে নিজে সব তথ্যগুলো যাচাই করুন। “প্বাসী গাইড” এর পরামর্শ হলো—সবকিছু কিওয়া (Qiwa) এবং আবশার (Absher) এর মাধ্যমে বৈধভাবে সম্পন্ন করুন। সঠিক তথ্য ও সতর্কতা আপনার প্রবাস জীবনকে করতে পারে আরও নিরাপদ ও সচ্ছল।

